

নিজস্ব প্রতিবেদক: গুলশানে পুলিশের ডিসি’র নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদেরকে বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্পা সেন্টার থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে জাফর ও পায়েলের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, গুলশান-বনানীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অবৈধ স্পা সেন্টার। যা হেয়ার কাটিং সেলুন, বিউটি পার্লার নাম থাকলেও ভিতরে চলছে জমজমাট দেহ ও মাদক ব্যবসা। দিনের পর দিন এইসব ভয়ংকর অপরাধ করে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু দালাল চক্র।
অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, গুলশানের বড় স্পা ব্যবসায়ী পায়েলে গুলশানের ৪৭ নম্বর রোডে তার নিজস্ব ফ্ল্যাটে এই অপকর্ম চালি যাচ্ছেন বহুদিন যাবত। আর এই পায়েলের অফিসেই জোড়া মার্ডার হয়। এইসব অবৈধ ব্যবসার উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে জাফর।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্পা ব্যবসায়ী দৈনিক প্রথম বেলাকে বলেন, গত (৬ ডেসেম্বর) শুক্রবার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ডায়মন্ড স্পা থেকে গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এর নাম ভাঙ্গিয়ে জাফর নামের এক ব্যাক্তি নিজেকে বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
জাফর সম্পর্কে অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাফর ও তার স্ত্রীর ১৩০ নম্বর রোডে একটি স্পা সেন্টার ছিলো। যা কিছুদিন পূর্বে পুলিশের অভিযানে বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নামে মানব পাচার দমন আইনে একটি মামলা হয়। যার মামলা নম্বর ১১/১২/১৩/৭। সেই মামলায় তার স্ত্রী দৈর্ঘদিন কারাবাস করেন। তিনি নিজে স্পা সেন্টারের মালিক হয়েও তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় প্রদান করেন এবং সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষকে নিজের ফাঁদে ফেলে প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জাফর একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও গত ৫ই আগষ্টের পর থেকে জাফর হটাতিই সাংবাদিক বনে যায়। আর নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েই চলে তার প্রতারনা ব্যবসা। জাফরের নামে গুলশানসহ ঢাকার বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু প্রতারনার জিডি রয়েছে। যার মধ্যে একটি জিডি’র নম্বর ১৩৬৯।
অন্য আরেক স্পা ব্যবসায়ী আরো জানায়, মোবাইল ফোনে জাফর ফোনে করে বলেন, তোমাদের স্পা সেন্টারে দেহ ব্যবসা হয়। আর এই ব্যবসা অবৈধ। তুমি যদি গুলশানে স্পা ব্যবসা করতে চাও, তাহলে ডিসি-ওসি, থানা-ফাঁড়ি’রসহ সবার টাকা আমার মধ্যমে দিতে হবে।
তিনি আরো জানায়, গত ৬ ডিসেম্বর জাফর ও পায়েল এক প্রকার জোড়পূর্বক ভাবে আমাকে ভয়-ভিতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে যায়।
এবিষয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা দৈনিক প্রথম বেলাকে বলেন, এইসব অবৈধ দেহ ব্যবসা করার কোন সুযোগ নেই। পুলিশ আগের তুলনায় অনেক সজাগ রয়েছে। আপনারা আমাদের তথ্য দেন, আমরা ব্যবস্থা নিব। আর জাফর নামের ব্যক্তিকে আমরা দ্রুতই আইনের আওতায় আনবো।




