আশুলিয়ায় বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

সাভার প্রতিনিধি: বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেছে চার বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা ইপিজেডের লেনি ফ্যাশন ও লেনি অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা। করোনাকালে নানা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় হংকংভিত্তিক মাস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লেনি ফ্যাশন ও লেনি অ্যাপারেলস।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা ইপিজেডের সামনে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অবরোধের মুখে সড়কটির উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, প্রায় চার বছর আগে কোভিড-১৯ এর দোহাই দিয়ে লেনি ফ্যাশন কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিন মাসের বকেয়া বেতন, অন লিভ সার্ভিস বেনিফিটের দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

তারা আরও জানান, চার বছর আগে কারখানা বন্ধ হলেও এখনো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়নি। বারবার তারিখ দিয়েও কথা রাখছে না বেপজা কর্তৃপক্ষ। পাওনা পরিশোধ না করা হলে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়বেন না বলেও জানান।

এ বিষয়ে লেনি অ্যাপারেলস লিমিটেডের কর্মী মো. ইসলাম বলেন, চার বছর আগে কারখানা বন্ধ হওয়ার সময়কার এক মাসের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা ও সার্ভিস বেনিফিট মিলিয়ে ৪৪ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে আমার। এক টাকাও এখনো পাইনি। আগামী ৩০ তারিখে শ্রমিকদের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা ধারণা করছেন এই তারিখেও তাদের টাকা দেওয়া হবে না। যার কারণে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে সংকটের মুখে বন্ধ হয়ে যায় ডিইপিজেডের কারখানা লেনি ফ্যাশন ও লেনি অ্যাপারেলস। বন্ধ হয়ে গেলেও কারখানাটির শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিটসহ বিভিন্ন পাওনা এখনো বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ জানান, কারখানা বিক্রির পদ্ধতি, আইনি প্রক্রিয়া এবং বকেয়া পরিশোধের পদ্ধতির বিষয়টি শ্রমিকদের জানানো হচ্ছে। তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে- যখনই লেনি ফ্যাশন কারখানাটি বিক্রি করা সম্ভব হবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button