যান্ত্রিক ত্রুটি, ফের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে জেজু এয়ারের বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৭৯ যাত্রী নিহত হওয়ার পরের দিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে যাচ্ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা জেজু এয়ারের আর একটি বিমান। তবে এবার সময়মতো চালক সতর্ক হওয়ায় তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জেজু এয়ারের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোং কিউং-হুন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন , “আজ ভোর ৬টা ৩৭ মিনিটে আমাদের সংস্থার একটি উড়োজাহাজ রাজধানী সিউলের গিম্পো বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়। টেক অফ করার কিছুক্ষণ পরই পাইলট লক্ষ্য করেন যে বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে কিছু সমস্যা রয়েছে।”

“ওই ত্রুটি অবশ্য বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় ৬ টা ৫৭ মিনিটেই সারিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল; তবে সেটিতে আরও কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না— পরীক্ষা করার জন্য আমরা পাইলটকে ফিরে আসার নির্দেশ দিই, এবং সেই অনুযায়ী ৭ টা ২৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি গিম্পো বিমানবন্দরে ফিরে আসে।”

ফ্লাইটতে কতজন যাত্রী ছিলেন তা জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি গিম্পোতে ফিরে আসার পর যাত্রীদের অন্য একটি বিমানে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল জেজু এয়ার, কিন্তু ২১ জন যাত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যখ্যান করে জানিয়েছেন যে তারা অন্য পরিষেবা সংস্থার ফ্লাইটে যাবেন।

গতকাল সোমবার ব্যাংকক থেকে ফিরে আসার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিধ্বস্ত হয় জেজু এয়ারের একটি বোয়িং উড়োজাহাজ। এতে বিমানটিতে থাকা ৬ জন ক্রু এবং ১৭৫ জন যাত্রী— মোট ১৮১ জনের মধ্যে ১৭৯ জনই নিহত হন।

যাত্রীদের সবাই এবং ৪ জন ক্রু ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন; বাকি যে ২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এর আগে এত ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার রেকর্ড নেই। উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার  প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি; তবে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটি রানওয়ের কালো অংশের (টারম্যাক) বাইরে চলে গিয়ে একটি দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছে। তাই রানওয়ে ছোট হওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্ভবত এটা দুর্ঘটনার কোনো কারণ নয়।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানেন এমন কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন যে পাখির আঘাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button