

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর তা প্রচার করে তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ১৮)
গোপনীয়তা রক্ষা করা ও অন্যের তথ্য চুরি না করা ওয়াজিব। কারও ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট বা তথ্য অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপনীয়তা অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিমের জন্য হারাম তার ভাইয়ের সম্পদ ও সম্মান।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)
ডিজিটাল মাধ্যমে অশ্লীলতা, গীবত ও ফিতনা ছড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য পোস্ট করা বড় গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা অশ্লীলতা ছড়াতে ভালোবাসে মুমিনদের মধ্যে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা নূর, আয়াত : ১৯)
সময়ের অপচয় রোধ করা প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম, রিলস বা অর্থহীন স্ক্রল করা মাকরুহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নেয়ামত সম্পর্কে মানুষ প্রতারিত স্বাস্থ্য ও অবসর।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)
ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূলনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র ডিজিটাল নিরাপত্তার দায়িত্বশীল। প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার অপরাধ দমন রাষ্ট্রের ফরজ। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যাতে ডেটা চুরি না করে, তার জন্য আইন প্রয়োগ করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো, যদিও তা আত্মীয়ের বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৫২)
ডিজিটাল দাওয়াহ ও শিক্ষা প্রচারে প্রযুক্তি ব্যবহার করা সুন্নত। অনলাইনে কোরআন শিক্ষা, হাদিস ক্লাস বা ইসলামী কনটেন্ট তৈরি করা সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে সৎপথে ডাকে, তার জন্য তত সওয়াব—যতজন তা অনুসরণ করে।’ (মুসলিম: ২৬৭৪)
প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার যেমন—হ্যাকিং, ফিশিং বা ভাইরাস ছড়ানো—সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৫৬)
ডিজিটাল নৈতিকতা প্রসঙ্গে মহানবী (সা.)-এর বাণী—, ‘মুসলিম সেই, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।’ (বুখারি: ১০)—এ হাদিস বর্তমানে ডিজিটাল জবান ও কি-বোর্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।




