
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে ক্লিনিকের পরিচালক রোগীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে শ্যামনগর পৌর সদরের ‘আনিকা ক্লিনিকে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালেহা বেগম (৩০) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সালেহা বেগম বিষপান করেন। স্বজনরা তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গেটে থাকা দালালচক্র তাদের ফুসলিয়ে পাশের আনিকা ক্লিনিকে ভর্তি করায়।
নিহতের বাবা আবুল হোসেন গাজীর অভিযোগ, ক্লিনিক পরিচালক আনিছুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মচারী ইয়াছিনকে ডেকে এনে অবৈধভাবে রোগীর পাকস্থলী পরিষ্কার (ওয়াশ) করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে সালেহার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিচালক আনিছুর রহমান স্বজনদের মিথ্যা আশ্বাস দেন যে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে দ্রুত আইসিইউতে নিতে হবে। এরপর তিনি একটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ তুলে সাতক্ষীরার দিকে রওনা দিয়ে আত্মগোপন করেন।
সালেহার মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের এক আত্মীয় বিষয়টিকে ‘শ্বাসকষ্ট’ বলে দাবি করলেও কৈখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহানুর আলম এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী ইয়াছিন নিশ্চিত করেছেন যে, ওই গৃহবধূ কীটনাশক পান করেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বাঁচাতে একটি পক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়ে থাকলে অবশ্যই অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হবে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফন করা যাবে না। মরদেহ যেখানেই থাকুক, উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক পরিচালক পলাতক এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।