

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়দাবাদ এলাকার করাতিটোলা স্কুল সংলগ্ন টাকা ও মোবাইল চুরির অভিযোগ করায় উল্টো ভুক্তভোগীকে মারধর ও জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মাকসুদুল আলম লাভলু জানান, করাতিটোলা সোহানের বাসায় সাবলেট বাসায় ভাড়া থাকাকালীন তার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নং-১২৬১ তারিখ: ১১/৯/২০২৫ ইং।
জিডি করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি তার। লাভলুর অভিযোগ, চুরির সঙ্গে জড়িত বাসার মালিক ও একটি কথিত চোর সিন্ডিকেট তাকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করে। একপর্যায়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এলাকার এক নিরীহ যুবক আলমগীরকে ধরে এনে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন কথিত চোর সিন্ডিকেটের নেতা শহিদুল ইসলাম।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আলমগীরের কাছ থেকে জোরপূর্বক দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করাসহ ভুক্তভোগী লাভলুর কাছ থেকেও টাকা দাবি করে সিন্ডিকেট।
ডায়েরি তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রতন জানান, সোহানের কাছ থেকে চুরি হওয়া মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগীর দাবি, পুলিশ যখন প্রকৃত চোরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, তখন অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোহান, সিন্ডিকেট প্রধান শহিদুল ইসলাম, ইমরান, জাহাঙ্গির, শামিম, জুয়েল ও জাহিদ ওরফে গেসুসহ ৫-৭ জন তার বাসায় গিয়ে মারধর করে এবং মালামালসহ তাকে জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করে দেয়।
এ ঘটনায় পুনরায় যাত্রাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী মাকসুদুল আলম লাভলু বলেন, “চুরির বিচার চাইতে গিয়ে আজ আমি নিজেই নিরাপত্তাহীন। থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আকরাম হোসেন বলেন, “কেউ যদি মোবাইল পেয়ে থাকে বা কিনে থাকে, সাধারণত আমরা সেটি উদ্ধার করি। আর চুরি বা ছিনতাই হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়। ভুক্তভোগীকে পাঠালে বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




