
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ‘শ্রমিক ইশতেহার’ প্রকাশ করেছে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক ‘জাতীয় অংশীজন কনভেনশন’-এ এই ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা ইশতেহার বাস্তবায়নে পরবর্তী ক্ষমতাসীন দলের সদিচ্ছা এবং বিরোধী দলের সক্রিয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, "যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা যেমন এই সুপারিশমালা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন, তেমনি যারা বিরোধী দলে থাকবেন তারাও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।"
কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন:
ড. আবদুল মঈন খান (বিএনপি): তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির সঠিক বাস্তবায়নের জন্য সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহমুদ জোবায়ের (জামায়াতে ইসলামী): রাজনৈতিক দলগুলোকে শ্রমিক আন্দোলনের ইস্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে অধিকার বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে আহ্বান জানান।
সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি): শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া কোনো দয়া নয়, এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।
বজলুর রশীদ ফিরোজ (বাসদ): বিনা জামানতে পেনশন স্কিম ও দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তাসলিমা আক্তার (গণসংহতি আন্দোলন): জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও সব শ্রমিককে শ্রম আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং কানাডিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি ফিলিপ বার্নিয়ার আর্কান্ড ইশতেহারের প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক মহল এই ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিও শ্রম সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শ্রমিক নেতারা মর্যাদাপূর্ণ কাজ, জীবনধারণের উপযোগী মজুরি এবং শ্রমিকের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।