
ঢাকা | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ রাজধানীর বাড্ডায় নাজমুল হক নিয়াজ নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ। একটি নিষিদ্ধ গে অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে টাকা ও মালামাল লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১. মোঃ সিফাত হোসেন (২১) ২. মোঃ সাকিব আল হাসান (১৯) ৩. রাইয়ান (২০) ৪. মোঃ নয়ন প্রমানিক (২১) ঘটনার নেপথ্যে যা ছিল: পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম নাজমুলের সাথে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রথমে ‘আলিফ’ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। আলিফই পরবর্তীতে সিফাত ও সাকিবকে নাজমুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। গ্রেফতারকৃতরা নিয়মিত নাজমুলের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং সেখানে তারা মাদক সেবন ও শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন।
তদন্তে উঠে আসে, সিফাত ও সাকিবের তাদের বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন ছিল। সেই টাকার লালসায় তারা নাজমুলের সর্বস্ব লুটের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারা একটি ধারালো ছুরি কেনেন এবং সিফাত সেটি কৌশলে নাজমুলের বাসার তোষকের নিচে লুকিয়ে রাখেন।
ঘটনার দিন রাতে মাদক সেবনের পর নাজমুল কিছুটা অচেতন হয়ে পড়লে সিফাত ছুরি দিয়ে তার মুখে ও গলায় গুরুতর জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর তারা বাসা থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি টেলিভিশন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান।
২৯ ডিসেম্বর ঘটনার পর নিহতের মামা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গাজীপুরের বোর্ড বাজার ও রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে লুটের একটি টেলিভিশন, একটি মোবাইল ও হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।