
উপজেলা প্রতিনিধি, নগরকান্দা: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার খবর পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত আলমগীর শেখ (৩৬) কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। তিনি তালমা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত আলমগীর শেখের ভাষ্যমতে, তিনি বুধবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে পৌঁছালে স্থানীয় রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখ তার পথ রোধ করেন। তারা তাকে 'ধানের শীষ' প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। আলমগীর জামায়াত-খেলাফত মজলিস জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
এই হামলার কারণ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মতভেদ দেখা দিয়েছে:
জামায়াতে ইসলামী: উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেনের দাবি, হামলাকারীরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল, যারা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হামলা।
বিএনপি: নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও একে রাজনৈতিক বিরোধ বলতে নারাজ। তার মতে, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার রাতেই হাসপাতালে আহত নেতাকে দেখতে যান ফরিদপুর-২ আসনের জোট প্রার্থী শাহ আকরাম আলী। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।