
উপজেলা প্রতিনিধি, সোনারগাঁ | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানি, খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মনির হোসেন ও রাসেল মিয়ার সাথে আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দা, টেঁটা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঁচানি গ্রামের টেঁটাবিদ্ধ বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা শতাধিক লোক নিয়ে গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এমনকি মসজিদে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
হামিদ পক্ষ,তাদের দাবি, মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়ার মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রাসেল পক্ষ, অন্যদিকে রাসেল মিয়ার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামিদ তাদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য ও নির্যাতন চালিয়েছেন। বুধবার সকালে তাদের ছেলেরা নদীতে গেলে হামিদের লোকজন মারধর করার পর সংঘর্ষ শুরু হয়।
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও হামিদুল ইসলামের অসম্মতির কারণে তা সফল হয়নি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি; প্রশাসন সরে গেলেই পুনরায় হামলার চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।