
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত অভিযানের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য ফাঁস করেছেন দেশটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। অভিযানের সময় মার্কিন সৈন্যরা মাদুরোর মন্ত্রিসভার সদস্যদের জীবন বাঁচাতে মাত্র ১৫ মিনিটের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগৃহীত একটি ভিডিও ফুটেজে রদ্রিগেজকে এসব তথ্য প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, মাদুরোকে অপহরণের প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি শুরু হয়। তিনি বলেন, “তারা (মার্কিন বাহিনী) আমাকে, আমার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়োকে আল্টিমেটাম দেয়। মার্কিন দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আমাদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় আমাদের সবাইকে হত্যার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।”
অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী তাদের জানিয়েছিল যে, মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আর জীবিত নেই, তাদের হত্যা করা হয়েছে। রদ্রিগেজ দাবি করেন, সেই মুহূর্তে তারা নিজেরাও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাত দিন পর অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকের ভিডিওতে দেখা যায়, রদ্রিগেজ তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের আশ্বস্ত করছেন। মাদুরো পরবর্তী সময়ে দেশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই ছিল তাদের মূল চ্যালেঞ্জ। ভিডিওতে তিনটি প্রধান লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট: ১. দেশে শান্তি বজায় রাখা। ২. জিম্মিদের উদ্ধার করা। ৩. রাজনৈতিক ক্ষমতা সংরক্ষণ করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ডেলসি রদ্রিগেজের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিতা লোপেজ মায়া মনে করেন, এটি রদ্রিগেজের নিজেকে রক্ষার একটি বয়ান হতে পারে। কারণ অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোকে অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরাও ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
মাদুরোর পতনের পর ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় বসেন রদ্রিগেজ। তবে এর পেছনে বড় শর্ত ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদে ওয়াশিংটনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল থেকে অংশ পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান