

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫০ লাখ পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।
কার্ডের সুবিধা ও যোগ্যতা
সরকারি সূত্রমতে, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। সুবিধাভোগীদের তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন:
-
দেশের হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার।
-
নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা।
-
বিশেষভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী।
বাজেট ও পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা
চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সংখ্যা ১৪০টি থেকে কমিয়ে ৯৫টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মোট বরাদ্দ ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের মধ্য থেকেই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বছরে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী: ১. আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিং কার্যক্রম শেষ করা হবে। ২. নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মত ও চ্যালেঞ্জ
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, “মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া ইতিবাচক, তবে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে না ধরলে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানো কঠিন হবে।”
এনবিআর-এর সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় একসাথে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করতে পারলে এটি বাজেটের ওপর বড় কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।




