যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কছাড় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করি, সেই তুলা দ্বারা প্রস্তুতকৃত যে গার্মেন্টস আছে, সেই গার্মেন্টস যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য সম্পূরক শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে। সহজভাবে বললে আমাদের ৮৫ বা ৮৬ শতাংশ রপ্তানির ওপরে শুল্ক শূন্য এবং ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানির ওপরে সম্পূরক শুল্ক হবে ১৯ শতাংশ।

আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সে ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা ইকোনমি। এই ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমির যে আমদানির প্রয়োজন সেখানে আমাদের রপ্তানির অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এক লাখ কোটি টাকার ওপরে রপ্তানি হয় আমেরিকার বাজারে। আমেরিকা ইজ ওয়ান অব আওয়ার মোস্ট ট্রেড সারপ্লাস এক্সপোর্ট ডেস্টিনেশন। আমাদের রপ্তানি গন্তব্যের হায়েস্ট যে উদ্বৃত্ত আমরা তৈরি করি সেটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের জন্য এই বাজারটা অতি সংবেদনশীল এবং অতি প্রয়োজনীয় একটা বাজার। এই বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা সামগ্রিকভাবে একান্ত প্রচেষ্টায় প্রথম ধাপে ৩৭ শতাংশ থেকে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নিয়ে আসতে সমর্থ হই। এর বিনিময়ে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে আমাদের ৬ বিলিয়ন ডলারের উপরে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এই ঘাটতি হ্রাসের লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু কাঠামোগত এবং আমাদের আমদানি উদারীকরণ করা কে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করি। কিন্তু এই এগ্রিমেন্টটাকে ফরমাল রূপ দেওয়ার যে সুযোগ আমাদের ছিল এই সুযোগের ভেতরে আমরা আরও নেগোশিয়েট করার চেষ্টা করেছি। এখানে আমাদের দুটো খুব বড় ধরনের অর্জন আছে। একটা অর্জন হচ্ছে আমরা ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নিয়ে এসেছি। দ্বিতীয় হচ্ছে আমাদের সকল রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৮৬ শতাংশ হচ্ছে গার্মেন্টস।

এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই চুক্তির মধ্যে আমাদের এই শর্ত যুক্ত আছে যে, যদি প্রয়োজন হয়, আমরা একটা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারব। পরবর্তী সরকার যদি মনে করে যে, কোনো কারণে ওনাদের জন্য এটা উপযুক্ত নয়, সেটার ব্যাপারেও আমরা সচেতন ছিলাম। আমরা এটাকে  চুক্তিতে সন্নিবেশ করেছি। এই মোটা দাগে আমাদের অর্জন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। কারণ, বাংলাদেশ যে পরিমাণ গার্মেন্টস রপ্তানি করে, তার কোনো অংশই তুলা বাংলাদেশে হয় না। মাত্র ২ শতাংশ তুলা বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ৯৮ শতাংশ তুলা আমাদের ন্যাচারালি আমদানি করতেই হয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমাদের জন্য খুব ভালো। এটা আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি ও জ্বালানি পণ্য ও ট্র্যাডিশনাল মেটাল স্ক্র্যাপসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি করার কথাও বলেন উপদেষ্টা।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা যে আমাদের বুঝিয়ে গেছেন যে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই কথাটা যে কত বড় ভুল তা প্রমাণিত হয় যখন আমাদের ১৫ বিলিয়ন ডলারের গম, ভুট্টা, তেলবীজ এবং বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা যে চুক্তিটা স্বাক্ষর করেছি, তার সাথে তারা ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’ নামে একটা ট্যারিফ সুবিধা দিয়েছে। চুক্তিটা কার্যকর হওয়ার দিন থেকে সেটা কার্যকর হবে। সেটা হলো ২ হাজার ৫০০ আইটেমের ওপরে তারা ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দিয়েছে। তার মধ্যে আমরা যা উৎপাদন করি, মোটামুটি ফার্মাসিউটিক্যালস হলো এক নম্বর। ফার্মাসিউটিক্যালসের সবগুলো এইচএস কোড, সবগুলো র-ম্যাটেরিয়ালের ওপরে ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতি, প্লাইউড বোর্ডসহ অনেকগুলো পণ্য রয়েছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে গেছে, তাদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। এরপরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশে নামে, যা ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।

বাড়তি এ শুল্ক আরোপের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার টানা ৯ মাসের বেশি সময় ধরে তা কমাতে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। সোমবার দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন পারস্পরিক শুল্ক দিতে হবে ১৯ শতাংশ। এতে করে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button