
আব্দুল আলিম, জেলা প্রতিনিধি (নাটোর) : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রীকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া এসিডে দগ্ধ হয়েছেন তার নানী হালিমা বেগম (৬৫)।
গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আহত হালিমা বেগম বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আক্রান্ত হালিমা বেগম নাজিরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য চামেলী বেগমের মা। এসিডে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং ডান কানের নিচের গলার কিছু অংশ ঝলসে গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় একটি শিশু ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ইউপি সদস্য চামেলী বেগম পুলিশকে সহযোগিতা এবং সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে নজরুল ইসলাম জেল খাটেন এবং জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে চামেলীকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এই পূর্ব শত্রুতার জেরেই এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ইউপি সদস্য চামেলী বেগম জানান, মধ্যরাতে তার মা হালিমা বেগম ও মেয়ে শাবানা (২২) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন। এসময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা নজরুল ইসলাম কলেজ পড়ুয়া শাবানাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে হালিমা বেগম চিৎকার করে নাতনিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। এতে শাবানা রক্ষা পেলেও এসিড হালিমা বেগমের শরীরে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হালিমা বেগমকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।