
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল এস’-এর তিন সাংবাদিক এবং ‘বাংলা টিভি’র এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের পূর্ব পাশে ‘উত্তরা সেন্টার ফুড কোর্ট’-এর সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত সংবাদকর্মীরা হলেন: শাহাদাত হোসেন ইমরান (স্টাফ রিপোর্টার, চ্যানেল এস), সীমা প্রধান (সিটি রিপোর্টার, চ্যানেল এস), শান্ত মাহমুদ (রিপোর্টার, চ্যানেল এস), মিজানুর রহমান (সাংবাদিক, বাংলা টিভি), মো. আমিনুল ইসলাম (স্থানীয় ব্যবসায়ী)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নূরে আলম (৩৩) নামে এক যুবকের সাথে ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলামের (৩৪) বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় নূরে আলম আমিনুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম বিষয়টি পরিচিত সাংবাদিকদের জানালে তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিয়াবাড়ী ফুড কোর্ট এলাকায় উপস্থিত হন। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে অভিযুক্ত নূরে আলমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র, বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, চ্যানেল এস-এর রিপোর্টার সীমা আক্তার ঘটনার ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত মো. হৃদয় (২৫) তাকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তার চোখের ওপর গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি দামী স্মার্টফোন (Samsung S23 Ultra) পিটিয়ে ভেঙে ফেলে হামলাকারীরা। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
এই ঘটনায় আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূরে আলম ও তার সহযোগী আলামিনকে (২৭) আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা এখনো পলাতক রয়েছে।
তুরাগ থানার ইন্সপেক্টর মো. টোকনুজ্জামান জানান, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে দুইজন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।”