মেট্রোরেলে চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে ‘অসন্তোষ’

নিজেস্ব প্রতিবেদক: টানা চারটি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বয়সসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বিরুদ্ধে। গত ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তড়িঘড়ি করে এসব বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২২ জনের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে নিয়োগের জন্য বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে তা ৩২ বছর। কিন্তু ডিএমটিসিএল তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করে। ফলে সরকারি বিধি মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যারা ৩৫ বছর বয়সসীমায় নিয়োগ পেয়েছেন, তারা বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন।

নিয়োগগুলো হয়েছিল ডিএমটিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিকের আমলে।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া চললেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি বিধি মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের চাকরি নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর প্রথম অধ্যায়ের ধারা অনুযায়ী, ডিএমটিসিএলের সব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার কথা। কিন্তু বিশেষ কিছু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ডিএমটিসিএল বলছে, সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সুপারিশ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আইনজ্ঞরা বলছেন, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যদি আইন অনুসরণ না করে নিয়োগ দেয়, তবে সেটি অবৈধ।

সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারপরও সরকারের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা কিছু আইন করে। সেই আইনগুলো কিন্তু সরকারি মূল আইনের পরিপন্থি হবে না। যেখানে আইন নাই, সেখানে যদি সরকারের আইন অনুসরণ না করে, তবে সেটি অবৈধ। যে কেউ এটি আদালতের দৃষ্টিতে আনলে বিষয়টি বন্ধ হয়ে যাবে

এদিকে, গত ১৪ আগস্ট ডিএমটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির এমআরটি লাইন-৬ এ প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য একটি চিঠি দেয়। পরে ২০ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে একই বিষয়ে স্মারকলিপি দেয় ডিএমটিসিএলের অধীন এমআরটি লাইনসমূহে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল নামের একটি পক্ষ।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, এমআরটি লাইন-৬ এর প্রকল্পে নিয়োজিত ৪৭ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণে সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে নবম গ্রেডের রয়েছেন ২২ জন। এমআরটি লাইন-৬ এর সংশোধিত জনবল কাঠামোতে ১৪১টি পদের অনুমোদন ছিল। এর মধ্যে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ মোট ৫৮টি পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়।

ডিএমটিসিএলের অধীন লাইনগুলো পরিচালনার জন্য বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সাধারণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি— এ দুই ধরনের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে, সাধারণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমটিসিএলের সরকারি বিধি অনুসরণ করা হয়নি। সরাসরি নিয়োগের ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে নবম গ্রেডে ৩৫ বছরের বয়সসীমা দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button