
জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
উত্তরাঞ্চলের উর্বর জনপদ গাইবান্ধা কেবল ভুট্টা আর মরিচের জন্যই নয়, দেশজুড়ে পরিচিত এর অমৃত সমান মিষ্টি ‘রসমঞ্জুরী’র জন্য। প্রায় আট দশক ধরে স্বাদে ও গুণে অনন্য এই মিষ্টি গাইবান্ধার মানুষের গর্ব। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এর সুখ্যাতি থাকলেও, দীর্ঘ সময় পর আজও মেলেনি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি।
এই ঐতিহ্যের যাত্রা শুরু ১৯৪৮ সালে। শহরের সার্কুলার রোডে ‘রমেশ সুইটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় রমেশ চন্দ্র ঘোষ ভারতের উড়িষ্যা থেকে কারিগর এনে প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। সেই থেকে আজ অবধি গাইবান্ধার আতিথেয়তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে রসমঞ্জুরী। বর্তমানে রমেশ ঘোষের উত্তরসূরিরা ছাড়াও জেলার প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে এই সুস্বাদু মিষ্টান্ন।
কারিগরদের মতে, রসমঞ্জুরী তৈরি একটি সময়সাপেক্ষ ও নিপুণ শিল্প। প্রথমে গরুর দুধের ছানার সঙ্গে ময়দা ও সুজি মিশিয়ে ছোট ছোট গুটি তৈরি করা হয়। এরপর চিনির সিরায় প্রায় আধা ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে এগুলোকে সেদ্ধ করা হয়। রসমঞ্জুরীর আসল বিশেষত্ব এর ক্ষীরে। প্রায় ১০০ কেজি দুধ ৩-৪ ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ৩০-৩৭ কেজি ঘন ক্ষীরে পরিণত করা হয়। ঘন ক্ষীরের সাগরে সিরায় ভেজানো নরম গুটিগুলো ডুবিয়ে দিলেই তৈরি হয় রসে টইটুম্বুর রসমঞ্জুরী। বর্তমানে প্রতি কেজি রসমঞ্জুরী বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায়।
রসমঞ্জুরী এখন গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। জেলার জনপ্রিয় স্লোগানটি হলো: “স্বাদে ভরা রসমঞ্জুরীর ঘ্রাণ, চরাঞ্চলের ভুট্টা-মরিচ গাইবান্ধার প্রাণ।”
দেশের ৫৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেলেও তালিকায় নাম ওঠেনি রসমঞ্জুরীর। স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত এই মিষ্টান্নকে জিআই পণ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক। রমেশ সুইটসের স্বত্বাধিকারী বাদল চন্দ্র ঘোষ জানান, সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা থাকলে এই মিষ্টি বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল রাজস্ব আয় সম্ভব।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব চৌধুরি বলেন, “রসমঞ্জুরী ইতোমধ্যে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এটিকে জিআই পণ্যের তালিকাভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।”