স্থানীয়দের দাবি, গেস্ট হাউজ ব্যবসার আড়ালে সেখানে সংঘবদ্ধভাবে নারী সরবরাহ, মাদক লেনদেন এবং ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়। দালাল চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী এনে এখানে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বহিরাগত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেক তরুণীকে এই গেস্ট হাউজে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে এবং ভয়ভীতি বা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় নামানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায়।

মাদক ও দেহব্যবসা পরিচালনার প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত রাজিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিজের প্রতিষ্ঠানকে ‘বৈধ’ দাবি করে তিনি বলেন, তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি সংবাদে না আনার জন্য সাংবাদিকদের নানাভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও চালান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযুক্তদের দাবি—কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই তারা এই কারবার চালাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা বলেন: "অভিজাত এলাকায় গেস্ট হাউজের নামে এমন নোংরামি মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই সিন্ডিকেট নির্মূল করা প্রয়োজন।"

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

এখন উত্তরাবাসীর দাবি একটাই—প্রশাসনের কঠোর অভিযান এবং এই চক্রের মূল হোতা রাজিবসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।