আব্দুল্লাহপুরে আকবর টাওয়ারে ওয়ান স্টার হোটেলে প্রকাশ্যেই চলছে দেহ ও মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে আকবর টাওয়ারে ওয়ান স্টার আবাসি হোটেরে মিলটন এর নেতৃত্বে দেহ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হোটেল ব্যবসার আড়ালে এখানে চলে রমরমা দেহ ও মাদক ব্যবসা। এই অবৈধ ব্যবসা চলছে অনেকটা প্রকাশ্যেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড পাশেই আকবর টাওয়ার। এই আকবর টাওয়ারের আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে উপরে ওঠার সিড়ি। আর এই সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে দুই ও তিন তলায় এই আবাসিক হোটেলটির অবস্থান। এই এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে এইসব অসামাজিক কার্যকলাপ। বিভিন্ন দালাল চক্রের মাধ্যমে খদ্দের আনা হয় এই হোটেলটিতে। দুই তলায় রিসিপশনে বসিয়ে দর-দাম ঠিক করে নেওয়া হলেই  খদ্দেরকে নেওয়া হয় তিন তলায়। একটি ঘরে সুন্দরী মেয়েদের পছন্দ করে একটি রুমে ঘন্টা চুক্তিতে কাজ করানো হয়। স্থানীয়দের মাঝে এইসব অসামাজিক কার্যকলাপে ক্ষুভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে আরও দেখা যায়, হাক-ডাক দিয়ে খদ্দের জোগার করে এই ওয়ান স্টার হোটেলটি। রাস্তায় পথচারিদেরকে অনেকটা জোড়পূর্বক প্রভাবিত করে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। পুলিশের নাকের ডুগায় এই অবৈধ ব্যবসা চললেও পুলিশ যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছে।

সিরাজগঞ্জ যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আলী হায়দার নামে যাত্রী। তিনি দৈনিক প্রথম বেলাকে বলেন, আমার কাছে একজন লোক আসে। এসে আমাকে একটা ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলে লাগলে চলেন। অনেক সুন্দর ও অল্প বয়সের মেয়ের কালেকশন আছে। চাইলে সাথে বাবা, গাজা, মদ, ফ্যান্সি খেতে পারবেন। এতে আমি হতভাগ হয়ে যাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার একজন দোকানী বলেন, আমাদের এই আব্দুল্লাহপুর এলাকাটা এখন অভিসাপ্ত এলাকা। এখানে আমাদের চোখের সামনে যে ধরনের পাপ গুলো হচ্ছে যা সহ্য করার মতো না। সকাল থেকেই দেখা যায় আকবর টাওয়ারের ওয়ান স্টার হোটেলের দালালরা হোটেলে খোদ্দের নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। দালালরা নিদের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু করে। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না।

অন্য আরেকজন দোকানি বলেন, আকবর টাওয়ারের ওয়ান স্টার আবাসিক হোটেলের কারণে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এইদিকে কোন ভালো মানুষ আসতে চায় না। এইখানে সবসময় দালালরা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের নিয়ে টানাটানি করে।

তিনি আরও জানান, এই আকবর টাওয়ারের ম্যানেজার শাহ্ আলম এর ক্ষমতায় এই এলাকায় ওয়ান স্টার হোটেলের মালিক মিল্ট এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যা নিয়ে আমরা এলাকার মানুষ অনেক ক্ষুব্ধ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অসহায় মেয়েদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদেরকে দিয়ে দেহ ও মাদক ব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, থানার ওসির সাথে ভালো সম্পর্ক রেখে এক প্রকার প্রকাশ্যেই এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্রটি। এখানে মাদক ও দেহ ব্যবসা অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে।

তাদের বিরুদ্ধে বহুদিনের অভিযোগ তারা অসহায় মেয়েদের দিয়ে দেহ ও মাদক ব্যবসা করাচ্ছে। কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাদের এই অবৈধ্য ব্যবসা। তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেদারছে চালাচ্ছে দেহ ব্যবসা। অসহায় মেয়েদের চাকুরীর প্রোলভন দেখিয়ে তাদের দিয়ে জোড় করে চলে এই অবৈধ্য ব্যবসা।

তাদের বিরুদ্ধে অনেক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করলেও প্রশাসন তাদেরকে বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কোন কার্যক্রমই দেখা যাচ্ছে না। উত্তরায় অনেক আবাসিক হোটেলে পুলিশ অভিজান পরিচালনা করলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এই ওয়ান স্টার হোটেলটিতে অভিজান পরিচালনা হচ্ছে না।

হোটেল্টির কয়েকজন মেয়ের সাথে কথা বলে জানাযায়, আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের দিয়ে জোড় করে দেহ ব্যবসা করাচ্ছে। আমাদের ভালো চাকুরী দেওয়া কথা বলে গ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে এই দালালরা।

তাদের সম্পর্কে খুজ নিয়ে জানাযায়, তারা দীর্ঘ দিন এই কাজের সাথে জড়িত আছেন। তাদের সাথে আওয়ামী লীগের ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে উঠাবসা এবং গভির সম্পর্ক রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ ও ছাএলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মনরঞ্জণ করার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানের রমনিদের ব্যবহার করেন। সুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নারী সাপ্লাইও করে থাকেন তারা।

এই বিষয় নিয়ে ওয়ান ‍স্টার হোটেলের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরে বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক মানুষ আসে। যাদের ঢাকায় কোন আত্মীয়স্বজন নাই বিধায় তারা এইসব হোটেলে রাত্রিযাপন কর। আমরা তাদেকে মানুষের সেবা করার জন্য লাইসেন্স দিয়েছি। আমরা এই বিষয় গুলো জানতাম না। এখন জেনেছি আমরা কিছুদিনের মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

এই বিষয়ে নিয়ে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিভি)র পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টে নিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছি। অভিযোগ প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button