
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬
রাজধানীর উত্তরায় ‘দুর্দান্ত পর্যটন গেস্ট হাউজ’-এ মাদক ও দেহব্যবসার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযানে নেমেছে পুলিশ। গত ১ এপ্রিল ‘রাজধানী সুপ্রভাত’ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন, ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ওই গেস্ট হাউজে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে। তবে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত বড় কোনো গ্রেফতার বা স্থায়ী ব্যবস্থা না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ৫৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত এই গেস্ট হাউজটি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, গেস্ট হাউজটি মূলত মাদক ও দেহব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের আড়ালে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয় এবং দালালচক্রের মাধ্যমে নারী ও মাদক সরবরাহ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে গ্রাহক সংগ্রহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘রাজিব’ নামের এক ব্যক্তি এই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো-উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে নারীদের এখানে আনা হয়। পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের এই ব্যবসায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়। রাতের অন্ধকারে বহিরাগত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং মাদক কেনাবেচার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এই এলাকা।
“প্রকাশ্যে এসব অনৈতিক কাজ চললেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক এবং আবাসিক এলাকায় সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুলিশের স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।”




