
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটাই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর।
এবারের বৈঠকে দুই দেশের অমীমাংসিত ও সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার টেবিলে থাকছে:
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা পুনরায় চালুর দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন চাইবে ঢাকা।
দিল্লির আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে আগামীকাল ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টায় এয়ার মরিশাসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে মরিশাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
দীর্ঘ ৭-৮ ঘণ্টার এই যাত্রাপথে একান্ত পরিবেশে দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। কূটনীতিকরা একে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে দেখছেন।
আজ বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
মূলত ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার পথে এই দিল্লি সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ সরকার।




