

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার খরবোনা নদী পাড় এলাকায় মাদক কারবারে রাজি না হওয়ায় একটি পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সৈকত ও তার সহযোগী আলীর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। হামলায় ৯ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. মুস্তাকিন এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. সৈকত পারভেজ ও মো. আলীর নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
মুস্তাকিন দাবি করেন, হামলাকারীরা তার একটি মোটরসাইকেল ও টেলিভিশন ভাঙচুর করেছে। এছাড়া ঘর থেকে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৪০ জোড়া কবুতর এবং দুটি ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমীনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই আলামিন জানান, তিনি আগে আলীর সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলেও বর্তমানে তা ছেড়ে দিয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছেন। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরু থেকে সৈকত ও আলী তাকে পুনরায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত হতে চাপ দেয়। মাদক বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় অথবা মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ায় তাদের ওপর এই পৈশাচিক হামলা চালানো হয়েছে। আলামিনের দাবি, বর্তমানে সৈকত ও আলী বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদী পাড় এলাকায় মাদকের পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাকিন অভিযোগ করেন, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। বোয়ালিয়া থানায় একাধিকবার ফোন করার প্রায় ৪০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




