শুভ নববর্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে

মোঃ পাপেল মিয়া, জেলা প্রতিনিধি (গাজীপুর): শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য উৎসবের। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামুর নেতৃত্বে দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পান্তা-ইলিশ পরিবেশন এবং নানা উৎসবমুখর কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার। এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী, নববর্ষকে স্বাগত জানান এক মিলনমেলার আবহে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কামরুল ইসলাম কামু পহেলা বৈশাখের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

পহেলা বৈশাখের সূচনা নিয়ে ইতিহাসে দুটি মত প্রচলিত রয়েছে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আকবর কৃষকদের সুবিধার্থে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে একটি সৌরভিত্তিক বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন, যা ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে এটি ‘বঙ্গাব্দ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। অন্যদিকে, কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের আমলেই বাংলা সনের সূচনা হয়েছিল।

নববর্ষের অন্যতম ঐতিহ্য ‘হালখাতা’, যেখানে ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন এবং ক্রেতাদের আপ্যায়ন করেন। এছাড়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আজ বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এক অনন্য আয়োজন। পান্তা-ইলিশ এখন নববর্ষের প্রতীকী খাবার হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা একসময় গ্রামীণ জীবনের সাধারণ খাদ্য ছিল।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে নাগরদোলা, মাটির খেলনা, বাঁশি আর পিঠা-পুলির সমাহারে মুখরিত থাকে পরিবেশ। এই দিনটি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সবশেষে কামরুল ইসলাম কামু সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “পুরনো সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দিনই পহেলা বৈশাখ।”

উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button