মমতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লোকসভা নির্বাচনের আগ দিয়ে রাজ্যপাল সিভি সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছিলেন, এখন নারীরা রাজভবনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। মমতার এমন মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করলেন রাজ্যপাল।

শুধু মমতা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যপাল একই মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, এমন কোনো মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

চলতি লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভার ভগবানগোলা ও বরাহনগর দুই আসনের উপ-নির্বাচন হয়। এই দুই আসনেই জয় লাভ করেন তৃনমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। ভগবানগোলায় জয়ী হন রেয়াত হোসেন সরকার ও বরাহনগরে সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায়।

তৃণমূলের এই দুই জয়ী প্রার্থীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল রাজভবনে । কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার বলেন, রাজ্যপাল বিধানসভায় এসেই বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করান। আর এ নিয়েই বিধায়কদের শপথ নেওয়া থমকে যায়। শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় ‘নবান্ন’র এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাজভবনে কেন সবাই যাবে? রাজভবনে যা কীর্তি কেলেঙ্কারি চলছে, তাতে মেয়েরা রাজভবনে যেতে ভয় পাচ্ছে বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে।

মমতার এই মন্তব্যের পর দিল্লি থেকেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেছিলেন, একজন প্রশাসনিক প্রধানের কাছে আমি কোনো বিষয়ে এমন বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য আশা করি না।

জানা গেছে, এসব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়ালের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়েছিলেন আনন্দ বোস। তার আগে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল ও বর্তমানে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকরের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা সেরে নেন বর্তমান রাজ্যপাল।

তৃনমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য দোলা সেন বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে হবে। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

এদিকে, রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। অবশ্য রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের নিন্দা করেছে সিপিএম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button