আব্দুল আলিম, জেলা প্রতিনিধি (নাটোর): বৈশাখের তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে নাটোরের গুরুদাসপুরে এখন উৎসবের আমেজ। উপজেলার দিগন্তজোড়া বাগানজুড়ে পেকেছে টসটসে লাল মোজাফ্ফর লিচু। ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকেরা ঝুড়িভর্তি লিচু নিয়ে ছুটছেন আড়তে। সারাদিন পাইকারদের হাঁকডাক আর দরদামে মুখর থাকে বাজার। প্রতিদিন কোটি টাকার লিচু কেনাবেচায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর গুরুদাসপুরে ৪১০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর বড় অংশজুড়েই রয়েছে আগাম জাতের মোজাফ্ফর লিচু। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদিত লিচুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
[caption id="attachment_23667" align="alignnone" width="300"]
ছবি: দৈনিক প্রথম বেলা[/caption]
উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়-গঙ্গারামপুর কানু মোল্লার বটতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ১৫টি অস্থায়ী আড়ত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারেরা এসব আড়ত থেকে লিচু কিনে ট্রাকে করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাক লিচু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোতালেব মেম্বর বলেন "গুরুদাসপুরের বাগান ও আড়ত মিলিয়ে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি লিচু বেচাকেনা হচ্ছে। এই মৌসুমি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রায় সাত হাজার মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে।"
লিচুচাষিরা জানান, অতিরিক্ত গরম ও অনাবৃষ্টির কারণে কিছু লিচু ঝরে পড়লেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সেই ক্ষতি অনেকটাই সামলে নেওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ থেকে ২,৪০০ টাকা দরে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘গুরুদাসপুরের লিচুর সুনাম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপত্তার সাথে বেচাকেনা করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেও থামে না লিচুর বাজারের ব্যস্ততা। ট্রাকের হেডলাইট, শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা আর আড়তের কোলাহল জানান দেয়—মোজাফ্ফর লিচুই এখন গুরুদাসপুরের মৌসুমি অর্থনীতির আসল প্রাণ।