আব্দুল আলীম, জেলা প্রতিনিধি, নাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা এলাকার চরপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো শত্রুতার জেরে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবা ও ছেলে গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছেলে নাইবুর ইসলামের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মশিন্দা চরপাড়া গ্রামের দুটি পরিবারের মধ্যে জমিজমা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই শত্রুতার জেরে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সেই পুরনো আক্রোশ থেকেই পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষ ইসাহাক আলী, তার ছেলে বিরু এবং বিরুর ছেলেসহ আরও ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
চীৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাইবুর ইসলাম ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আহত বাবা তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তবে শংকামুক্ত কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলা এই বিরোধ নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আজ পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা স্থানীয় বিরোধ যখন খুনাখুনি ও সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মশিন্দা চরপাড়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, যথাযথ আইনি সমাধান না পেলে প্রতিহিংসার আগুন যুগ যুগ ধরে জ্বলতে থাকে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।