নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল—টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, প্রতিটি প্রান্তে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যে নামটি সবসময় অগ্রভাগে থাকে। আর এই যুবদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হলো ঢাকা মহানগর উত্তর। এই ইউনিটের এক লড়াকু, বিশ্বস্ত এবং রাজপথ কাঁপানো নেতার নাম শিমুল আহমেদ। যিনি মাঠ পর্যায় থেকে নিজের যোগ্যতা, ত্যাগ আর সততার প্রমাণ দিয়ে আজ যুব রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন।
রাজনীতি মানেই যেখানে ত্যাগ, সেখানে শিমুল আহমেদ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিগত সরকারের দমন-পীড়নের মুখে কোনো দিন মাথানত করেননি তিনি। দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মতিঝিলের রাজপথ থেকে শুরু করে পল্টনের দলীয় কার্যালয়—প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তাকে দমনের চেষ্টা করেছে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কারাভোগের খতিয়ানই বলে দেয় দলের প্রতি তার আনুগত্য কতটা গভীর: দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৮ দিন কারাভোগ। ২০২৩ সালের আগস্টে পল্টন থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৬ দিন রাজবন্দী হিসেবে কাটানো। ২০১০ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাবরণ। চব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরা ৭ থানার প্রতিটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করে দমনের চেষ্টা করা হয়।
সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টি রচিত হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সফল করতে শিমুল আহমেদ সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন, যার ফলশ্রুতিতে তার ওপর নেমে আসে অসংখ্য মামলার বেড়াজাল। কিন্তু কোনো ভয় বা প্রলোভন তাকে রাজপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। শিমুল আহমেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিক শ্রমের ফসল। ২০০২ সালে বৃহত্তর উত্তরা থানার দক্ষিণখান ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে (জসিম ও সাইফুল আলম নিরব কমিটির সময়ে) তার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।
তিনি উত্তরা মডেল থানা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব) অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মিরপুর জোনের টিম প্রধান হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষমতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি তার দক্ষতার ছাপ রেখেছেন।
বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যারা বারবার জেল খেটেছেন এবং যারা রাজপথের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন—তাদেরই এখন নেতৃত্বে আসা সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী করতে সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদের জন্য শিমুল আহমেদ একজন অত্যন্ত যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার স্থায়ী বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম ও মোসা: শহীদা বেগমের এই সন্তান সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে জনপ্রিয়। বৃহত্তর উত্তরা এলাকার প্রতিটি সামাজিক ও মানবিক সংকটে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, শিমুল আহমেদ কেবল একজন নেতাই নন, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের প্রতিটি কর্মীর আস্থার প্রতীক। মাঠের কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এই নেতা আগামী দিনে যুবদলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তর যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। রাজপথের এই পরীক্ষিত নেতৃত্বই হোক আগামী দিনের প্রেরণা।