সিটি নির্বাচনেও এনসিপির শেষ ভরসা ‘জোট’: ৫ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে ভোট করার পরিকল্পনা করছে গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং এককভাবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে, দলটির মূল লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট বা সমমনাদের সঙ্গে সমঝোতা করা। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলটি জোটের কোনো বিকল্প দেখছে না।

বর্তমানে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠ গোছালেও শেষ পর্যন্ত জোটেই ভরসা রাখছে এনসিপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে করলে, তা নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার আগে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হতে পারে। তবে তার আগ পর্যন্ত এনসিপির প্রার্থীরা এককভাবেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।

আসন্ন নির্বাচনে ইতোমধ্যে দেশের ৫টি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আরিফুল ইসলাম আদীব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া কুমিল্লা সিটিতে তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটিতে মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটিতে আবদুর রহমান আফজাল মেয়র পদে লড়বেন। বাকি সাতটি সিটি কর্পোরেশনসহ উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ২০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি৷

এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, গত জাতীয় নির্বাচনে দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে সংসদের ছয়টি আসনে বিজয় লাভ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতা রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোটভিত্তিক কৌশলকে সামনে আনা হচ্ছে। তবে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, ফলে জোটভুক্ত দলগুলো বিভিন্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দিতে পারে। তবে জোটের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভবিষ্যতে এই জোট দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে, দেশে সুনির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা না হলেও, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং বাজেট প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে মোট পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে সিটি কর্পোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের পর নির্বাচন নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button