

মোঃ পাপেল মিয়া: গাজীপুরের টঙ্গীতে হা-মীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সিসিএল-৩ পোশাক কারখানায় এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কর্মী মহলে দেখা দেয় উত্তেজনা ও আতঙ্ক। এতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে টঙ্গী বিসিকের মিলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে কারখানার মো. আতিকুল ইসলাম (৩০) নামে একজন শ্রমিক হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মারা যান। আজও একই ধরনের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হলে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যান।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রোমানা হক বলেন, হা-মীম গ্রুপের ১২ জন শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন। আরও অনেকে হাসপাতালে আসছেন। আতঙ্কের কারণেই তারা অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি। ভর্তি রোগীদের মধ্যে চারজন—তানিয়া (২১), সুমি (২৫), শারমিন (২৪) ও ইয়াসমিনকে (২২)—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে আরও ১২ জন শ্রমিককে আনা হয়। তাদের মধ্যে হাসিনা (২৫) ও পারভিন (২৬) ভর্তি রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসা নিয়ে চলে যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে মহুয়া (২৮), রুনা (৩৫), সাগরিকা (২৭), মিতা প্রমুখ রয়েছেন।
গত ২৪ নভেম্বর ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেডের শ্রমিক আতিকুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহা. হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, “আজকের ঘটনার পর পুলিশ কারখানায় গেছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
এ বিষয়ে হা-মীম গ্রুপের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, সকালে একজন শ্রমিক স্ট্রোক করে ফ্লোরে পড়ে যান। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।




