
আব্দুল আলিম, জেলা প্রতিনিধি (নাটোর)
নাটোরের বড়াইগ্রামে একদিনে পৃথক দুটি বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পরিচালিত এই অভিযানে এক বরকে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং অপর এক কনের বাবাকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ফুলবতী গ্রামে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করে বালিকাবধূ নিয়ে রওনা দেওয়ার সময় হানা দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে বর-কনেকে রেখে তাদের বাবা-মা দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বর রতন সরদারকে (২৬) ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রতন বড়াইগ্রাম পৌরশহরের লক্ষীকোল এলাকার ইদ্রিস সরদারের ছেলে। ১৪ বছর বয়সী কনেকে তার স্বজনদের জিম্মায় দিয়ে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়।

একইদিন সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জোয়াড়ি ইউনিয়নের কুমরুল গ্রামে ১৬ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করায় কনের বাবা আব্দুর রশিদকে (৫০) ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেখানে অভিযান চালানো হয়।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রতন সরদারকে রাতেই নাটোর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর বলেন, “বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই সামাজিক ব্যাধির কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনি কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।



