

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস’-এ ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবারের এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানায়, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, সৌদি আরবে বর্তমানে ২,৩২১ জন মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনারা মূলত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করেন।
ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিনই খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হন।
ইরানও এর পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে হামলায় আহত সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬) সম্প্রতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এপি।




