আগারগাঁওয়ে ‘বিএনপি বাজার’: সরকারি জমি দখল ও মাদকের রাজত্বে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আগারগাঁওয়ের তথাকথিত ‘বিএনপি বাজার’ এবং এর আশপাশের এলাকা নিয়ে আপনার উদ্বেগ অত্যন্ত যৌক্তিক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই এলাকাটি রাজধানীর একটি জটিল সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আগারগাঁও কি কখনও চাঁদাবাজ মুক্ত হবে না—আপনার এই প্রশ্নের উত্তর কয়েকটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়

আগারগাঁওয়ের এই নির্দিষ্ট অংশটি নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এখানে মূল সমস্যাগুলো হলো বড় একটি এলাকা জুড়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ অবৈধ বাজারগুলো অনেক সময় অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়, যা স্থানীয় আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

মূল রাস্তার ওপর বাজারের সম্প্রসারণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা দখল করার ফলে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ‘বিএনপি বাজার’ নাম হলেও ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং চাঁদা আদায় করে। এটি একটি ‘ওপেন সিক্রেট’।

আগারগাঁও এলাকাটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে (Administrative Hub) রূপান্তরিত হয়েছে। এর গুরুত্ব বিবেচনায় এলাকাটি দখলমুক্ত হওয়ার শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে:

নির্বাচন কমিশন, আইডিবি ভবন, পর্যটন ভবন এবং অসংখ্য সরকারি দপ্তরের পাশে এমন একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ রাখা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জিং। তাই বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে এটি উচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আপনি লক্ষ্য করেছেন যে ৫ এপ্রিল (আজ) ডিএমপি আগারগাঁওয়ের আইডিবি ও নির্বাচন ভবন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। যদিও এটি বড় বাজারের ওপর ছিল না, তবে এটি প্রমাণ করে যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই এলাকার দিকে নজর দিচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়রের উদ্যোগে রাজধানীর অনেক জায়গাই দখলমুক্ত করা হয়েছে। আগারগাঁওকে একটি পূর্ণাঙ্গ আইটি ও প্রশাসনিক জোন করার পরিকল্পনা থাকায় এখানকার বস্তি বা অবৈধ বাজারগুলো চিরস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

চাঁদাবাজ মুক্ত হতে হলে কেবল উচ্ছেদ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নিবিড় নজরদারি। যখনই কোনো জায়গা উচ্ছেদ করা হয়, সঠিক তদারকি না থাকলে কয়েকদিন পর তা আবার দখল হয়ে যায়।

এলাকাবাসী হিসেবে আপনারা স্থানীয় কাউন্সিলর বা ডিএনসিসির অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযোগ জানাতে পারেন। গণমাধ্যমের কর্মীরাও ইদানীং এই এলাকাটি নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করছেন, যা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

তাত্ত্বিকভাবে কোনো এলাকাই চিরকাল দখলদারদের কবলে থাকে না। আগারগাঁওয়ের যে উন্নয়ন বর্তমানে দৃশ্যমান, তাতে আশা করা যায় যে আজ হোক বা কাল, সরকারি এই মূল্যবান জমিটি উদ্ধার হবে এবং এলাকাটি তার প্রাপ্য স্বস্তি ফিরে পাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button