মো: ইব্রাহিম, ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উত্তরখান পূর্ব  থানার উদ্যোগে তুমি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৭ই ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটার দিকে  উত্তরখান শাহ কবির মাজার মাঠে এক বিশাল কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

কর্মী সম্মেলন উদ্বোধন করেন ‘২৪ এর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ আমীরুল ইসলামের মামা হারুন অর রশিদ।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সম্মানীত আমীর মুহতারাম মো: সেলিম উদ্দিন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, আমাদের সকল নেতাকর্মীকে দেশের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসক পালানোর পর দেশে যে শান্তির বাতাস বইছে তা ধরে রাখাতে হবে। বিগত ১৬ বছর জামায়াত ইসলামী প্রকাশ্যে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। আজ ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে সে স্বাধীনতা আমরা লাভ করেছি। ভোগে নয়, জামায়াত ইসলামী ত্যাগে বিশ্বাসী।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ফ্যাসীবাদীদের পতন হলেও তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য একেবারে উঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু এসব ষড়যন্ত্রে সরকারকে ভয় পেলে চলবে না বরং পতিত স্বৈরাচারের সকল দেশ ও জাতিস্বত্ত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে ঐতিহাসিক ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। তাদেরকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনাকে দিতে হবে অগ্রাধিকার। আর যারা আগামীতে ক্ষমতায় যেতে চান তাদেরকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও সতর্ককতা অবলম্বন করতে হবে। এমন কথা বলা যাবে না যাবে না যাতে তাদেরকে জনগণ ফ্যাসীবাদের দোসর মনে না করেন। তিনি বিভেদের রাজনীতি পরিহার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও কোরবানীর মাধ্যমে ছাত্র-জনতা ফ্যাসীবাদী অপশক্তিকে বিদায় করছে। জনগণ দেশে আর ফ্যাসীবাদের পদধ্বনি দেখতে চায় না। তাই ফ্যাসীবাদের উত্থান রুখতেই জনগণ আগামী নির্বাচনে দেখে শুনে ভোট প্রদান করবেন। তারা অবশ্যই প্রার্থীদের অতীত পর্যালোচনা করে দেখবেন। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের সম্পদের স্থিতি কতখানি তা তারা বিবেচনায় নিবেন। আগামীতে ভোট দেওয়ার মানদণ্ড হবে প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ও তাকওয়া। যারা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদাহ, বোধ-বিশ^স, আগেব-অনুভূতি এবং তাহজিব- তামুদ্দনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন জনগণ আগামীতে তাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত একটি গণমুখী ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যেতে চাইনা বরং আগামী দিনে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্যতর নেতৃত্বের হাতেই ক্ষমতা অর্পন করতে চাই। আমরা এমন তাওকাবান নেতৃত্ব তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি যারা ঘুষ, দুর্নীতি , চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীসহ কোন প্রকার অবক্ষয়ের সাথে জড়িত হবেন না।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। শিশু শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সকল শ্রেণিতে পবিত্র কুরআনের তরজমা ও তেলাওয়াত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি করতে পারলে আগামী দিনের নেতৃত্ব আর কোনভাবে অপরাধ প্রবণতার সাথে জড়িত হবেন না।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়বে আমীর মুহতারাম আবদুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি জনাব নাজিম উদ্দিন মোল্লা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও উত্তরা পূর্ব জোনের পরিচালক মুহাম্মদ জামালউদ্দিন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগরী উত্তরের মজলিসে শুরা সদস্য ও উত্তরখান পূর্ব থানা আমীর মো: ইসরাইল হোসেন।

মহানগরী উত্তরের মজলিসে শুরা সদস্য এবং উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম জোনের বিভিন্ন থানা আমীরবৃন্দ, উত্তরখান পূর্ব থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, ওয়ার্ড সভাপতিসহ বিপুল সংখ্যক কর্মী, সুধী ও শুভাকাঙ্ক্ষী।

কর্মী সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন উত্তরখান পূর্ব থানা সেক্রেটারী মো: সামছুল কবির বাহার।

কর্মী সম্মেলন শেষে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।