নিজস্ব প্রতিবেদক:পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের শুরুতেই রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। 

তবে প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের পিছু ছাড়েনি চরম ভোগান্তি। তীব্র বাস সংকটের পাশাপাশি দূরপাল্লার পরিবহনে যাত্রীপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। অগ্রিম টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে কিংবা ইঞ্জিনের ওপর বসেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, এবারের ঈদযাত্রায় অগ্রিম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের পথ কিছুটা আরামদায়ক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে আসা সাধারণ মানুষ পড়ছেন বিপাকে। কাউন্টার ও লোকাল বাসগুলো উপস্থিত টিকিট ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

নিয়মিত ৫০০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। নন-এসি গাড়িতে নিয়মিত ৭০০-৮০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। ৭০০ টাকার নিয়মিত ভাড়া ঠেকেছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

বরিশালগামী যাত্রী জসিম জানান, পরিবারসহ বাড়ি যাওয়ার জন্য হানিফ পরিবহনের ৪টি টিকিট ৮০০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভাড়া বেশি নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়ছে না। পেছনের দুই-একটা সিট পূরণ করার জন্য ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে টার্মিনালে অপেক্ষা করানো হচ্ছে।”

যাত্রাবাড়ী মোড়ে বরিশালগামী লোকাল পরিবহন ‘বিএমএফ’-এর একটি বাসে দেখা গেছে, সিট ভর্তি হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সময় এই পরিবহনে ৪০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন আসন প্রতি ৭০০ টাকা এবং দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকেও ৬০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ঈদযাত্রায় অন্য কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষ বাড়তি খরচ ও ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন।