নিজস্ব প্রতিকেদক: রাজধানীর এতিম ও দুস্থ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে শিশুদের নতুন জামাকাপড়, টুপি ও উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়। শিশুরাও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পেরে ছবি তুলে স্মৃতিও জমিয়েছেন।
বুধবার (২৮ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে জেলা প্রশাসকের বাংলোয় এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কল্যাণপুরের কমিশনার গলির মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্সের এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এ সময় বাংলোর উঠোনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক, তাদের স্নেহ করেন এবং স্মৃতি ধরে রাখতে সবাই মিলে ফটোফ্রেমে ছবিও তোলেন।
জানা গেছে, ঢাকা জেলা প্রশাসনের ২৫৪ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো জেলা প্রশাসক এতিম ও দুস্থ শিশুদের সঙ্গে এভাবে ঈদ উদযাপন করলেন।
উপস্থিত এতিম শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসকের বাসায় এসে ঈদের আনন্দ করব। নতুন জামা, টুপি আর এত সুন্দর আয়োজন পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আজকে মনে হচ্ছে আমরাও সবার মতো ঈদ করছি।’
জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমাদের অনেকের বাবা-মা নেই। ঈদের সময় মন খারাপ থাকে। কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক আমাদের যেভাবে আদর করেছেন, মনে হয়েছে আমরা পরিবারের সঙ্গেই আছি।’
রুমন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যার আমাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। এই দিনটা আমরা কোনোদিন ভুলব না।’
মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতি আব্দুল মাজীদ বলেন, ‘এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মানবিক কাজ। জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ শিশুদের মাঝে ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তার জন্য দোয়া করি।’
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও সেই আনন্দে শামিল হতে পারে। এতিম ও অসহায় এসব শিশুদের মুখের হাসিই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, ‘অনেক শিশুই আছে, যারা ঈদের নতুন জামা বা পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ পায় না। আমরা চেয়েছি অন্তত একটি দিনের জন্য হলেও তারা যেন অনুভব করে– রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসন তাদের পাশে আছে। তারা একা নয়।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘এই শিশুরাই আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের ভালোবাসা, যত্ন ও মানবিক পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। ঈদ হোক সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার উৎসব। সুতরাং সমাজের প্রতিটি দেয়াল ভেঙে এই উৎসব ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি জেলা প্রশাসক; আমি তো মা’ও। সন্তানের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রনা আমাকে স্পর্শ করে। সেই বোধ থেকেই আমরা চেয়েছি আমাদের এসব সন্তানদের নিয়ে একটি ভালো মুহূর্ত কাটাতে।