মোঃ ইব্রাহিম, ঢাকা:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তরখান থানা পুলিশ শূন্য থাকলেও আবারও থানায় ফিরতে শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা। নিজ কর্মস্থলে ফিরে দাপ্তরিক কাজ শুরুর পাশাপাশি স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে কর্মস্থলে ফিরলেও এক ধরনের আতঙ্ক ও ভীতি বিরাজ করছে এমন কথাই বলছেন পুলিশের কয়েকজন সদস্য।

সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে উত্তরখান থানা এলাকায় ওসি (তদন্ত) উদয় কুমার মন্ডল এর নেতৃত্বে কয়েকটি গাড়ীতে নিয়মিত টহল ডিউটিতে দেখা যায়। উত্তরখান থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সবধরনের সহযোগিতা করার আশা ব্যক্ত করেন উদয় কুমার মন্ডল।

এ সময় ওসি (তদন্ত) উদয় কুমার বলেন, দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগে পুলিশ সদস্যরা হতাহতের ঘটনার বিচার চেয়ে ১১ দফা দাবিতে কয়েকদিনের কর্মবিরতিতে ছিলেন। পুলিশের মহাপরিদর্শকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের কর্মস্থলে যোগদানের আহ্বানে পুলিশ সদস্যরা থানায় আসতে শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে। পুলিশ কারও শত্রু নয়, বন্ধু ও সেবক হয়ে কাজ করবে।

এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন পুলিশ সদস্যরা।

এর আগে কর্মস্থলে নিরাপত্তা, ৫ আগস্ট দিনসহ আগে ও পরে সহিংসতায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ, পুলিশ সংস্কারসহ ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভসহ কর্মবিরতি পালন করছিলেন পুলিশের সদস্যরা।

যেসব দাবি জানানো হয়েছে: চলমান ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ হত্যাসহ পুলিশের স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, আজীবন পেনশন রেশন প্রাপ্তি এবং পরিবারের একজন সদস্যের সরকারি চাকরি নিশ্চিত করা, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা এবং গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, পুলিশের নিয়োগ বিধিমালা বিশেষত সাব ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অধীনে কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সাব ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট পদে বিদ্যমান পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা, সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট থেকে ইন্সপেক্টর পদে পিএল হওয়ার এক বছরের মধ্যে পদোন্নতি নিশ্চিত করা, কনস্টেবল, নায়েক, এটিএসআই, এএসআই পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরীক্ষায় পাসকৃতদের পরবর্তী বছর পুনঃপরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল এবং পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে পাসকৃতদের সিনিয়রটি অনুসরণ; আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পুলিশের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আট ঘণ্টা নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য ওভারটাইম প্রদান অথবা বছরে দুটি বেসিকের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা; পুলিশের ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি, টিএ-ডিএ বিল প্রতিমাসের ১০ তারিখের মধ্যে প্রদান এবং প্রযোজ্য সব সেক্টরে সোর্স মানি নিশ্চিত করা, নৈমিত্তিক ছুটি বৃদ্ধি করে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ৬০ দিন কার্যকর করা(আগে ছিল ২০ দিন), অভোগকৃত ছুটির বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা; পুলিশ বাহিনীর প্রচলিত পুলিশ আইন এবং পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল সংস্কার করে যুগোপযোগী এবং কার্যকরী করা, পুলিশ বাহিনীকে যেন কোনও দলীয় সরকার তার রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা, পুলিশের সব থানা, ফাঁড়ি এবং ট্রাফিক বক্স আধুনিকায়ন করা এবং অধস্তন অফিসারদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অধস্তন কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সব ব্যারাকে বিদ্যমান আবাসনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ব্যারাকগুলোকে আধুনিকায়ন করা।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। এসব ঘটনা ছাড়াও পুলিশি স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অতিদ্রুত বিচারের আওতায় আনা, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুলিশের নিয়োগ বিধিমালা বিশেষত সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট নিয়োগ পিএসসির অধীনে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অধীনে কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছিলেন পুলিশ সদস্যরা।