1. admin@prothombela.com : দৈনিক প্রথমবেলা : আলোচিত সংবাদ
  2. celestakilpatrick37@back.lakemneadows.com : celestaz71 :
  3. hershelteakle@back.lakemneadows.com : clkhershel :
  4. demiusher@bronze.crossandgarlic.com : demiusher355 :
  5. clemmie@solarlamps.store : elliottmidgett3 :
  6. t.ra.nn.go.cl.e.b.m.t@gmail.com : gonzalocotter :
  7. 14@sondat.com.vn : imogenebaumgardn :
  8. 59@sondat.com.vn : jeffreykoch508 :
  9. lateshamcmillen85@basic.poisedtoshrike.com : lateshamcmillen :
  10. lavonnebeauchamp@back.lakemneadows.com : lavonnedrc :
  11. luladudley@why.cowsnbullz.com : luladudley363 :
  12. lynarmour19@zero.hellohappy2.com : lynb67085523 :
  13. ruebenmatthias12@why.cowsnbullz.com : rueben0617 :
  14. shereemokare@why.cowsnbullz.com : shereebdf921 :
  15. mikhailodahrz@mail.ru : taylorlawry51 :
  16. tylerdaily15@basic.poisedtoshrike.com : tylerdaily9 :
শিরোনাম :
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমকে বহিস্কার মেহেরপুরের গাংনীতে প্রেমিকের টানে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী আটক সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৭৯ বার পেছাল তালাক দেয়া স্বামীর কাছে ফিরে যেতে সহায়তা চেয়ে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ লভ্যাংশ ঘোষণা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সন্দেহের ভিত্তিতে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীর হাত-পা বিচ্ছিন্ন করলেন স্বামী চট্টগ্রামে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী ইয়ামিনকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চায় হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার রাজধানীতে যেসব মার্কেট বন্ধ থাকে বাংলাদেশে পাচারের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে ২১ শতাংশই নারী বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে সাত

পুলিশ তিন আসামিকে নির্মম নির্যাতন করে মিথ্যা জবানবন্দি আদায়

  • আপডেট টাইম: বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৩৩ বার দেখা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জে নির্মম নির্যাতন করে তিন আসামির কাছ থেকে এক মামলায় মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা নারায়ণগঞ্জের এক কিশোরীকে ‘গণধর্ষণ’ ও ‘হত্যা’র দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার ৫১ দিন পর ঐ ‘মৃত’ কিশোরীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দেশ জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন ওঠে—ঘটনার দায় স্বীকার করে তিন আসামির জবানবন্দি প্রদান নিয়ে। এ নিয়ে করা রিভিশন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে বিচারিক অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। ঐ বিচারিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তিন আসামির ওপর পুলিশের নির্মম নির্যাতনের করুণ কাহিনি। জানা যায়, তাদের নির্যাতনের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঐ মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ধর্ষণ’ শেষে ‘হত্যা’র শিকার ঐ কিশোরীর জীবিত ফেরার মামলায় তিন আসামিকে মারধর, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. শামীম আল মামুন এ কাজ করেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের ক্ষেত্রে দুই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। মামলার এজাহার, আট জন সাক্ষী, তিন আসামি ও ভিকটিমের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে এই অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপনের এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, এই মামলার ভিকটিম কিশোরী ফিরে না এলে কী হতো? তিন আসামির দেওয়া ঐ জবানবন্দির ভিত্তিতে বিচার হলে তো এদের ফাঁসি হতো!’ বিচারপতি বলেন, ‘এ ধরনের সব মামলা প্রকাশ পায় না। দু-একটি মামলা আমাদের সামনে আসে। তখন প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হয়।’

গত বছরের ৪ জুলাই ১৫ বছর বয়সি ঐ কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে তার বাবা। ঐ মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিলুর নামে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে। রিমান্ডে নিলে গত ৯ আগস্ট তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা বলেছিলেন, ঐ কিশোরীকে তারা অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেন। ঘটনার ৫১ দিন পর ২৩ আগস্ট ঐ কিশোরী ফিরে এলে হাইকোর্টে পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে মো. শিশির মনির রিভিশন মামলা করেন। এরপরই হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার আদ্যোপান্ত অনুসন্ধানে নামেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি ভিকটিম, ভিকটিমের বাবা-মা, রিমান্ডে থাকা তিন আসামি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন, জবানবন্দি গ্রহণকারী দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১২ জনের সাক্ষ্য নেন। তার কাছে তিন আসামি রিমান্ডে তাদের ওপর অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা বলেন, ‘আপনার কাছে সাক্ষ্য দিতে আসার সময় পুলিশ আমাদের হুমকি দিয়ে বলেছে যেন নির্যাতনের কথা উল্লেখ না করি।’

‘হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন করে’

আসামি মো. খলিল তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘আমি নৌকা চালাই। চার-পাঁচ জন পুলিশ গিয়ে মাঝিদের থানায় নিয়ে আসে। ছয় জন মাঝি ছিলাম। একটা রুমে বসায়। সবার আগে আমাকে একটি কক্ষে ডেকে নেয়। এসআই মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের রুমে। সেখানে গিয়ে জীবনে প্রথমে আব্দুল্লাহকে দেখি। পুলিশ জিজ্ঞাসা করলে বলে যে আব্দুল্লাহ আমাকে চেনে। আমি তখন বলি, আব্দুল্লাহকে তো কখনো দেখিনি। তখন পুলিশ আমাকে লকআপে নেয়। অন্য পাঁচ মাঝিকে ছেড়ে দেয়। এক দেড় ঘণ্টা পর আবার মোস্তাফিজ স্যারের রুমে নিয়ে বারবার জিজ্ঞাসা করে। আমি বারবারই বলি আমি ওদের চিনি না। পরে আমাকে একটি রুমের ভেতর নিয়ে হাত-পা বেঁধে এবং ওপরে পা, মাথা নিচে করে ঝুলিয়ে রাখে। আমার মাথা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখে। আমার নাকে মুখে বরফ ঠান্ডা পানি ঢালতে থাকে। আর বলে, পুলিশ যা শিখিয়ে দেবে তা-ই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বলতে হবে। এই অত্যাচারে আমি দম আটকে অজ্ঞান হয়ে যাই। এভাবে সারা রাত অত্যাচার করে। শামীম, আ. হাই ও মোস্তাফিজের নেতৃত্বে আরো কয়েক জন মিলে এই কাজটি করে। থানায় দুই দিন রেখে কোর্টে চালান দেয়। দুই দিনের দিনের রিমান্ডে এনে আবার মারধর করে। রিমান্ডে এনে আমাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমাকে বারবার লাশটি বের করে দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড মারধর করে। আমি যখন বলি, তারা খুঁজে লাশ বের করুক, তখন আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সবচেয়ে বেশি মেরেছে মোস্তাফিজ ও শামীম। ওদের লোক দিয়েও মেরেছে। পরে অত্যাচার ও ভয়ে আমি স্বীকার করি যে পুলিশের শেখানোমতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষ্য দেব। এরপর আমি প্রাণের ভয়ে ও পুলিশের তীব্র অত্যাচার সইতে না পেরে গণধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করি।’ বিচারিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আসামি পুলিশের শেখানোমতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

‘পুলিশের কথামতো সাক্ষ্য না দিলে মেরে ফেলবে’

আসামি রকিব বলেন, ‘রিমান্ডে একটি রুমে নিয়ে মোটা লাঠি দিয়ে এসআই শামীম আমাকে মারতে শুরু করে। পরে আ. হাই মারে। এক ঘণ্টা সময় ধরে মারে। গামছা দিয়ে চোখ বাঁধে। রাতে লকআপে ছিলাম। আব্দুল্লাহ একা ছিল। আমি আলাদা ছিলাম। পুলিশ বলে, তাদের কথামতো সাক্ষ্য না দিলে মেরে ফেলবে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পুলিশের কথামতো জবানবন্দি দেই। আমাকে রিমান্ডে এনে এসআই শামীম সোর্স কিসলুর মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে। আমার ভাই ভিকটিমের বাবাকে ২০ হাজার টাকা দেয়।’

‘লকআপ থেকে বের করে আমার মাথায় পিস্তল ধরে’

আসামি আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ঐ কিশোরীর সঙ্গে প্রেম হয়নি, তবে একটু একটু বন্ধুত্ব হয়। একদিন ওকে আমি নদীর ঘাটে আসতে বলি। পরে ট্রলারে করে নদী পার হই। রাকিব ছিল। সে অটো চালায়। ঘোরাফেরা শেষে তাকে দেওভোগে পৌঁছে দেই। পরে তার বাবার মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর রিমান্ডে নিয়ে আমাকে লাঠি দিয়ে মার দেয় এসআই শামীম। আমার অল্প অল্প জ্ঞান ছিল। এক ঘণ্টা মারার পর জ্ঞান হারাই। পরদিন আবার রিমান্ডে নিয়ে দুটি চেয়ারের মাঝখানে লাঠি দিয়ে বেঁধে চরকির মতো ঘুরায়। আমার নাক দিয়ে গরম পানি ঢালে। গামছা ভিজিয়ে নাক দিয়ে গরম পানি দেয়। বারবার আমাকে ঘটনা স্বীকারের জন্য চাপ দেয় শামীম স্যার। পরদিন লকআপ থেকে বের করে আমার মাথায় পিস্তল ধরে আব্দুল হাই। বলে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে আবার হাত-পা বেঁধে বাড়ি দিতে থাকে। এ সময় আব্দুল হাই বলে, আমি যেভাবে বলব ও শিখিয়ে দেব, সেভাবে বলবি। আর বলে, কখনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বলবি না যে পিস্তল ধরেছি, মারধর করেছি। এরপর তোকে জামিন করে দেব। পরে আমাকে কোর্টে নিয়ে আসে। আমি ১৬৪ ধারা বা রিমান্ড কী জানি না। আমি ভেবেছি, আগে মারের হাত থেকে বাঁচি। এরপর শামীম ও আব্দুল হাইয়ের শেখানোমতে জবানবন্দি দেই। আজকেও পুলিশ বলেছে যে আপনার এখানে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যেন বলি পুলিশ আমাকে মারধর করে নাই।’

তিন আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে বিচারিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিকটিমের বয়স ১৫ বছর। ১৬ বছরের নিচের কোনো নাবালিকাকে তার অভিভাবকের হেফাজত থেকে নিয়ে যাওয়া অপহরণের অপরাধ। ভিকটিম জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা বলেছেন। আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার পর ভিকটিমের সন্ধান পায় পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই তত্পরতা প্রশংসনীয়। তবে এই মামলায় অপহরণ ও ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হলেও ভিকটিমকে মেরে ফেলার বিষয়টি আসামিগণ তদন্ত কর্মকর্তার নির্যাতনের ভয়ে বলেছেন। রিমান্ডে নিয়ে মারধর, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দিয়ে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় একে সংজ্ঞায়িত ও শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

গতকাল আদালতে রিভিশন মামলার পক্ষে আইনজীবী শিশির মো. মনির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে। ঐ দিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2021 ProthomBela

Site Customized By NewsTech.Com