1. admin@prothombela.com : দৈনিক প্রথমবেলা : দৈনিক প্রথমবেলা
  2. alhajshahalam99@gmail.com : দৈনিক প্রথমবেলা সত্যে অবিচল দৈনিক : দৈনিক প্রথমবেলা সত্যে অবিচল দৈনিক

জামালপুর-শেরপুর-বনগাঁও সড়ক উন্নয়ন কাজে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ  

  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
  • ১৭১ বার দেখা হয়েছে
মোঃ নমশের আলম জেলা প্রতিনিধি শেরপুরঃ শেরপুরে ১শত ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুর-শেরপুর-বনগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে কোটি কোটি টাকার লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের কাজ করায় তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নজরে আসায় এ আঞ্চলিক মহাড়কটির নির্মান কাজ প্রায় ৩ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এতে জন দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বছর না ঘুরতেই সড়কের নতুন নির্মিত অনেক স্থানেই খানাখন্দ হওয়া শুরু করেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দূর্ঘটনা। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই অনেকেই হতাহত হয়েছেন।
১৯৯১-৯২ সালে আঞ্চলিক মহাসড় হিসেবে কুরিয়ান কোম্পানীর মাধ্যমে জামালপুর-শেরপুর বনগাঁও সড়কটির নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি ইতিমধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সড়কটির পূন:নির্মান কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। ৩২.৪০ কি:মি:দীর্ঘ এ সড়কটির ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে পূন:নির্মান কাজ শুরু করে যৌথভাবে মেসার্স এসইপিএল প্রা: লি:, ওটিবিএল ও মেসার্স তূর্ণা এন্টারপ্রাইজ নামের ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শুরু থেকেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাজ করতে থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে জাতীয় সংসদের হুইপ ও শেরপুর ১ আসনের এমপি মো: আতিউর রহমান আতিক সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সড়কটি পূন:নির্মান কাজের অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের সুপারিশ করেন। আর এতে প্রকাশ হয়ে যায় অনিয়মের বিষয় এবং বন্ধ হয়ে যায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ। দূর্ভোগ বেড়ে যায় মানুষের। গত বছর জুলাই মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একাধিক তদন্ত টিম এসে তদন্ত করে সড়কটির নির্মান কাজে অনিয়ম পান।
সূত্র জানায়, তৎকালীন সড়ক ও জনপথের শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং মেসার্স এসইপিএল প্রা: লি:, ওটিবিএল ও মেসার্স তূর্ণা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে যোগসাজশ করে কাজের বিপরীতে পাওনার চেয়ে অনেক বেশী টাকা উত্তোলন করে চলে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান কর্মকর্তারা।
কিন্তু শুরু থেকেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেসব কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যোগসাজশের অভিযোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,পূর্বের সড়কটির দুই পাশ্বে ১মিটার করে ২ মিটার সম্প্রাসরণ কাজে দেড় ফুট বালি ও সাববেস ৮ইঞ্চি সাববেস, ৬ইঞ্চি সাববেস-২ ধরা থাকলেও তা করা হয়নি। এই কাজে অনেক নিম্ন মানের ইট বালি ব্যবহার করা হয়েছে। পুরনো সড়কের মেগাডম, কার্পেটিং ও বিটুমিনাস সম্পূর্ণ উঠিয়ে ফেলে সেখানে পাথর দিয়ে ৮ইঞ্চি (২০০ মিলি মিটার) ডব্লিওবিএম করে তার উপর আড়াই ইঞ্চি (৬০ মিলি মিটার) কার্পেটিং এবং ১ ইঞ্চি (২৫ মিলি মিটার) বিটুমিনাস দিয়ে ফিনিসিং দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং পূরনো সড়কের উপরের আড়াই ইঞ্চি (৬০ মিলি মিটার) কার্পেটিং এবং ১ ইঞ্চি (২৫ মিলি মিটার) বিটুমিনাস কার্পেটিং উঠিয়ে সেই পুরনো পাথর এর সাথে সামান্য নতুন পাথর ব্যবহার করে সড়কটির প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়। ডব্লিওবিএম করার পর তার উপর আড়াই ইঞ্চি কার্পেটিং এবং ১ ইঞ্চি বিটুমিনাস দিয়ে ফিনিসিং দেয়ার কথা থাকলেও তা কোথাও করা হয়নি। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়। আর বছর না ঘুরতেই নতুন নির্মিত সড়কটি অনেক স্থানেই খানখন্দক হওয়া শুরু করেছে। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় জাতীয় সংসদের হুইপ মো: আতিউর রহমান আতিক এর হস্তক্ষেপে শুরু হয় তদন্ত। গত বছর জুলাই মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একাধিক তদন্ত টিম এসে তদন্ত করে সড়কটির নির্মান কাজে অনিয়ম পেয়ে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহাম্মদকে শেরপুর থেকে বদলী করে ফেনি আর উপসহকারী প্রকৌশলী মাজাহারুল ইসলাম আজাদকে মেহেরপুর পাঠান। তবে তিনি যাওয়ার আগে সড়কের ৬০ ভাগ কাজ‌ও যেখানে সম্পন্ন হয়নি সেখানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ৯০ কোটি টাকা বিল প্রদান করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এদিকে তদন্তে নিম্নমানের কাজ করায় ঠিকাদারকে দেয়া এ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করা হলেও এখন পর্যন্ত সেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অপরদিকে সেই নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহাম্মেদের বিরুদ্ধেও কোন বিভাগীয় ও আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি রহস্যজনক কারণে। বরং তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে শেরপুরের চেয়ে বড় জেলায় বদলি করে। প্রথমে তাকে ফেনিতে বদলি করা হলেও বর্তমানে তিনি ফরিদপুর আছেন বলে মুঠো ফোনে জানান। তাই শেরপুরের সচেতন মহল ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
এ ব্যাপারে শেরপুর শহর আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মানিক দত্ত বলেন, এ সড়কে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। একেবারেই নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ঐ ঠিকাদারকে শাস্তি প্রদান করে কালো তালিকাভূক্ত করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, এ কাজে অনিয়মের সাথে জড়িত কমকর্তাদের শাস্তি না দিয়ে বড় জেলায় বদলি করা হয়েছে। তাদেরকেও শাস্তি দিতে হবে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জন উদ্যোগ শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দূর্নীুত কাকে বলে এ সড়কটি দেখলেই তা মনে পড়ে। কাজ চলমান থাকা অবস্থায়ই নির্মান করা সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। কাজের ৪০ ভাগ বাস্তবায়ন না করেই ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যারা এ দূর্নীতির সাথে জড়িত ঐসব কর্মকর্তাদেরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়াও ভূক্তভোগী জনগন বলেন, এ সড়কটি নির্মান না করায় প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত সড়কটি নির্মান সম্পন্নের দাবী জানাই।
 এদিকে নিম্নমানের কাজ ও বেশী বিল পরিশোধের কথা অস্বীকার করে শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেই সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে ফরিদপুর জেলায় কর্মরত), আহসান উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন আমি মনে করি সঠিকভাবেই কাজ করেছি।
এদিকে শেরপুরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো: শরিফুল ইসলাম দৈনিক প্রথম বেলা কে জানান, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কঅর্ডার বাতিল করেছি। তার বিরুদ্ধে ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
প্রকাশক কর্তৃক স্যানমিক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ প্রথমবেলা
Site Customized By Rahatit.Com