সত্যে অবিচল দৈনিক প্রথমবেলা

ক্রেতা ঠকিয়ে হেলথ কেয়ার পণ্যের রমরমা বাণিজ্য

406

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দেশি-বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের নকল ওষুধ ও ভেজাল হেলথ কেয়ার প্রসাধনীতে সয়লাব রাজধানীসহ সারাদেশের বাজার। এতে প্রতিনিয়ত ঠকছেন ক্রেতারা। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানেও বন্ধ হচ্ছেনা এসব ব্যবসা। করোনা মহামারীতেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। টাকা খরচ করে ভেজাল প্রসাধানী কিনে মারাত্বক শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নারী-পুরুষ সবাই। কোন কোন জায়গায় আসল প্রসাধনীর সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে নামি প্রতিষ্ঠানের মোড়ক ও ডিজাইন নকল করে বানানো রূপচর্চা সামগ্রী। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিদেশী কোন এক দেশের পণ্য বলে ঘোষণা দিলেও বস্তুত সেগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অথবা চীন থেকে আমদানী করা হচ্ছে। সম্প্রতি এমনি এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে।

‘ডার্মা হেলথ কেয়ার’ নামের একটি হেলথ কেয়ার কোম্পানী অনলাইনে প্রোডাক্টের বিবরন লিখে দিচ্ছে একরকম, আর বাস্তবে সেটার ভিন্ন। ভোক্তাকে অন্ধকারে রেখে একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। যা একজন ভোক্তার অধিকারক্ষুন্ন করে। ভোক্তা অধিকারে জমা দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ডার্মা হেলথ কেয়ার নামের প্রতিষ্ঠানটি ‘বায়োটিন ডিএস শ্যাম্পু’ পর্তুগালের পণ্য বলে বিক্রি করলেও বাস্তবে সেগুলো নিয়ে আসা হচ্ছে চীনের গুয়াংঝু প্রদেশ থেকে। ইউরোপের দেশ পর্তুগাল থেকে আমদানীকৃত তাই দাম নেয়া হচ্ছে দুই-তিনগুন বেশি। সাধারণ ভোক্তাদের জানার কোন উপায় নেই প্রোডাক্টটি যে পর্তুগালের নয়।

অভিযোগে আরো একটি পণ্যের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। ‘মিনক্সিমাস সলিউশন’ নামের একটি ওষুধ যেটি মূলত চুল পড়া রোধের জন্য ব্যবহার হয়। বাজারে এটি মূলত ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হলেও প্রতিষ্ঠানটির নেই ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন। কারন এই ওষুধে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে ‘মিনক্সিডিল’ রাসায়নিক। অভিযোগে বলা হয় ‘ডার্মা কজ লোশন’ নামের ত্বকের একটি ক্রিমও ওষুধ হিসেবে বিক্রিত হচ্ছে। বস্তুত ‘ডার্মা হেলথ কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানটির নেই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের বিক্রয়কর্মী দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের অনেক ডাক্তার নির্দিষ্ট সুবিধা গ্রহনের বিনিময়ে এই প্রতিষ্ঠানটির পন্য রোগীদের চাহিদাপত্রে লিখে দেন। কথা হয় ডা: আলাউদ্দিন কবির নামে কুষ্টিয়ার এক ডাক্তারের সাথে। তিনি নিজেও ডার্মা হেলথ কেয়ারের পন্য চাহিদাপত্রে লিখে দেন।

দৈনিক প্রথম বেলাকে ডা: আলাউদ্দিন কবির জানান, ‘আমরা শুধু যাচাই করি প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বিধি নিষেধ মানছেনা কিনা। প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন অনিয়ম থাকলে সেটি আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। এই বিষয়গুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যথাযথ মনিটরিং করলেই আমাদের পক্ষেও যাচাই করা সহজ হয়ে যায়।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে যাওয়া হয় রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ডার্মা হেলথ কেয়ারের প্রধান কার্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানের কেউ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে রাজী না হলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ডার্মা হেলথ কেয়ারের মালিক মো: শহীদুল ইসলামের সাথে। তিনি প্রতিবেদককে একদিন পর সময় দেবার কথা বললেও পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা জানা যায় দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত শুরু হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.