টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ও মহিষমারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার পিছিলা ঘোনা থেকে মমিন আরা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি পাকা ও সম্প্রসারণ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বর্ষাকালে কাঁদায় সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানায়, সড়কটির দুই পাশে কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। মধুপুরের বিখ্যাত আনারসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এ সড়ক দিয়ে বাজারে নেওয়া হয়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাঁদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা হলদিয়া গ্রামের আবু হানিফ(৫০) বলেন, সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানান তিনি।
একই গ্রামের আয়নাল হক(৫২) বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আনারসসহ বিভিন্ন ফসল বাজারে নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। রাস্তা ভালো হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
চান মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পাকা করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
খায়রুল আলম আকাশ(৫০) বলেন, সড়কটির আশপাশে ভবিষ্যতে আরও শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখনই সড়কটি সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় নাসির উদ্দীন বলেন, সড়কটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগের জন্য নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির সময় রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অনেক সময় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি সড়কটি পাকা করণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা একটি আবেদন করেছে বলেও তিনি জানান। সড়কটি প্রস্তাবিত আইডিনং ৩৯৩৫৭৫২৪৪।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পিছিলা ঘোনা থেকে মমিন আরা পর্যন্ত সড়কটি গেজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঠানো হয়েছে। সড়কটির আইডি নম্বর পাওয়া গেলে এবং বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটি পাকা ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সহজ হবে।