প্রথম তদন্তে অভিযোগের যেন কোনো কমতি ছিল না। হত্যা, নির্যাতন কিংবা লুটপাটের মতো গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল আসামিদের বিরুদ্ধে। তবে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বা প্রাথমিক উপাদান না থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজেই মামলাটি অধিকতর (পুনরায়) তদন্তে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আর সেই পুনর্তদন্তেই বদলে যায় পুরো চিত্র।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফেনীর তোফাজ্জল হোসেন তজুর বিরুদ্ধে প্রথম তদন্তে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ মেলার কথা বলা হলেও, আদালতের নির্দেশে করা দ্বিতীয় তদন্তে কোনো প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় তদন্তে অভিযোগের ভিত্তিহীনতার কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও আগের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়।
দ্বিতীয় তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, দুটি প্রধান অভিযোগের কোনোটিরই প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও থেমে থাকেনি বিচারপ্রক্রিয়া; বরং প্রথম তদন্তে আনা অভিযোগের ভিত্তিতেই গঠন করা হয় আনুষ্ঠানিক চার্জ (অভিযোগ), শুরু হয় বিচার এবং নির্ধারণ করা হয় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন-তারিখও। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় দুই তদন্ত প্রতিবেদনে এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধানের নথিপত্র এসেছে ঢাকা পোস্টের হাতে।
প্রথম তদন্ত ও মামলার পটভূমি
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজু, মো. ইউসুফ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে এম নূর আহমদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি তদন্ত শুরু হয়। দুই বছর পর, ২০১৯ সালের ৩০ মে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ৯১ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এতে ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে ওই তিনজনের সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তিন আসামির বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে ‘ফরমাল চার্জ’ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল সকালে সাত-আটজনকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী সদরের ফকিরহাট বাজারে আবুল হোসেনের দোকানে হামলা চালান রাজাকার তোফাজ্জল। তিনি নিজ হাতে গুলি চালিয়ে দোকানি আবুল হোসেনকে হত্যা ও গোলাম রব্বানী নামের একজনকে আহত করেন। এছাড়া ১০-১৫টি দোকানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি আবুল হোসেনের লাশ আগুনে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট রাতে উত্তর গোবিন্দপুরের আবদুর রউফের বাড়িতে লুটপাট চালান আবু ইউসুফসহ কয়েকজন। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক শামছুল হক, আবদুল হক, মুজিবুল হক ও রউফকে অপহরণ করে জমিদার বাড়ির রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। একই রাতে তোফাজ্জলের নির্দেশে আবদুল ওয়াহাবকে গুলি করে হত্যা করেন আবু ইউসুফ।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপক্ষের আনা এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন আদালত। নূর মোহাম্মদ ছাড়া বাকি দুজন ছিলেন পলাতক। আইনানুযায়ী পলাতকদের বিরুদ্ধে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন ধার्य ছিল। তবে, নির্ধারিত দিনে প্রসিকিউটর রাজিয়া সুলতানা চমন আদেশের সময় পেছানোর আবেদন জানান। আসামিপক্ষ আপত্তি জানালেও অভিযোগের পেছনে ‘প্রাইমা ফেসি’ বা প্রাথমিক ভিত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।
উল্টে যাওয়া দ্বিতীয় তদন্ত
স্বতঃপ্রণোদিত আদেশের পর তদন্তের দায়িত্ব পান তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মতিউর রহমান। ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট জমা দেওয়া তার প্রতিবেদনে আগের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে যায়। তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মতামত অনুযায়ী, দুটি অভিযোগের কোনোটিতেই আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া ওই পুনর্তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুনরায় তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ পর্যালোচনায় স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, ফেনী সদর থানার উত্তর ধলিয়া গ্রামের আবুল হোসেন হত্যা ও গোলাম রব্বানীকে আহত করার ঘটনায় আসামি তোফাজ্জলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, দ্বিতীয় অভিযোগে বর্ণিত আবদুল ওয়াহাবকে হত্যা ও অন্যান্যদের আটকে রেখে নির্যাতনের সঙ্গে তোফাজ্জল, ইউসুফ ও নূর মোহাম্মদের জড়িত থাকার সত্যতাও প্রাথমিকভাবে মেলেনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় দফার এই তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন না করেই আগের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর চার্জ গঠনের আবেদন জানানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৬ মে তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তোফাজ্জলসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আসামিপক্ষ আরও জানায়, ২০০৯ সালে আবদুল ওয়াহাব হত্যার ঘটনায় ফেনীর আদালতে মামলা করেছিলেন তার ছেলে শাহাবুদ্দিন। মামলাটি তদন্তকালে নেওয়া ওয়াহাবের স্ত্রীর আড়াই পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে নূর মোহাম্মদ ও ইউসুফের বিরুদ্ধে স্বামীকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যার বিবরণ থাকলেও তোফাজ্জল হোসেনের কোনো নাম ছিল না।
তাদের ভাষ্যমতে, ২০০৯ সালের পর মামলাটি দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দেওয়া ওয়াহাবের স্ত্রীও ২০১৭-১৮ সালের দিকে মারা যান। এর মধ্যেই ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মামলাটির তদন্ত নতুন করে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা, যা বর্তমানে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের অভিযোগ ও বর্তমান আইনি লড়াই
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তোফাজ্জল হোসেন। জামিন পাওয়ার পরপরই অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন জানান তিনি।
গত ১৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যতালিকায় থাকা ৪ নম্বর মামলাটি (আইসিটি বিডি মামলা নম্বর ১/২০২১) ছিল তোফাজ্জল হোসেনের। সেদিন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও, তোফাজ্জলের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ও আইনজীবী মো. জামিল হক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি করেন।
শুনানির শুরুতেই মামলায় থাকা বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে তোফাজ্জল হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান ব্যারিস্টার রাগিব। রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও নথিপত্র পর্যালোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
আসামিপক্ষের অভিযোগ, এ মামলার পেছনে মূল কারণ ছিল বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তোফাজ্জল হোসেন বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে এতদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের (৫ আগস্ট, ২০২৪) পরই তিনি দেশে ফেরেন।
ব্যারিস্টার রাগিব রউফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, “শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে তোফাজ্জল হোসেন চরম হয়রানির শিকার। ২০০৯ সালে ফেনীতে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। অথচ ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের পর তাকে সম্পৃক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল ‘কেস অব নো এভিডেন্স’ উল্লেখ করে এটি পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। পুনর্তদন্তেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। অথচ তৎকালীন প্রসিকিউশন সেই দ্বিতীয় প্রতিবেদন গোপন রেখে চার্জ গঠনের আবেদন করে।”
তিনি আরও বলেন, “তোফাজ্জল একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাকে সর্বস্বান্ত করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দখল করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই মিথ্যা প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। মূল অভিযোগে দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার কথা থাকলেও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট বলেছেন যে তোফাজ্জল এর সঙ্গে জড়িত নন। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়ও তার নাম ছিল না। আমরা আদালতের কাছে রিভিউ আবেদনের মাধ্যমে এই অন্যায্য অভিযোগ গঠন থেকে তার পূর্ণ অব্যাহতি চেয়েছি।”
তোফাজ্জলের অপর আইনজীবী মো. জামিল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, “একাধিকবার তদন্ত হলেও আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তৎকালীন প্রসিকিউটররা এই তথ্য গোপন করে চার্জ গঠন করিয়েছিলেন, যদিও ডিফেন্স আইনজীবীরা প্রথম থেকেই এর জোরালো বিরোধিতা করে আসছেন।”
প্রসিকিউশন ও তৎকালীন প্রসিকিউটরের বক্তব্য
পুনর্তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো প্রাথমিক প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অভিযোগ আমলে নেওয়া হলো এবং কীভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল ও চার্জ গঠন সম্পন্ন হলো— তা নিয়ে বিস্ময় ও প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজুসহ অন্যদের বিরুদ্ধে বিবিধ মামলা নম্বর ছিল ২/২০১৯ এবং আইসিটি বিডি কেস নম্বর ১/২০২১, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ঘিরে করা। বর্তমানে আসামিপক্ষ থেকে এ মামলায় চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে একটি রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে তারা দুটি তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করেছেন। এর মধ্যে অধিকতর তদন্তে (ফার্দার ইনভেস্টিগেশন) আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রাইমা ফেসি’ বা প্রাথমিক উপাদান তারা পাননি। অর্থাৎ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। এমনকি ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশেও লেখা ছিল— ‘দেখলাম’, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক ভিত্তি নেই।”
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, “আমি নিজেও সন্দিহান— আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে কীভাবে অভিযোগ আমলে নেওয়া হলো এবং কীভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হলো। ফরমাল চার্জ না হয় দাখিল হলো, আমলেও নেওয়া হলো— মানলাম। কিন্তু অন্তত তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে বিষয়টি ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখে-শুনে চার্জ গঠন করা উচিত ছিল। আপাতত আমার মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে এই প্রতিবেদনগুলো যদি যথার্থ হয়, ফরমাল চার্জে যদি ভিত্তি না থাকে কিংবা অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশটি ভিত্তিহীন বলে মনে হয়, তাহলে আমরা কাউকে অযথা হয়রানি করব না। আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই পরিষ্কার— আমরা কোনো অপরাধীকে যেমন ছাড় দেব না, তেমনি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি দেখব।”
এ নিয়ে কথা হয় তৎকালীন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন-এর সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে মৌখিক সাক্ষ্য ও দাপ্তরিক প্রমাণাদিসহ পর্যাপ্ত উপাদান ছিল। তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করেই তৎকালীন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করেছিল, যা ট্রাইব্যুনালও আমলে নেন এবং চার্জ গঠনের শুনানি সম্পন্ন করেন। তবে, একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন।”
তিনি দাবি করেন, “এভাবে পুনরায় তদন্তের আদেশ দেওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না এবং এটি ছিল ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ত্রুটি। কারণ, পুনর্তদন্তের প্রতিবেদনে আগের নথিপত্রই বহাল ছিল; কেবল কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছিল সাক্ষ্য দিয়ে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে না। নতুন প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কোনো তথ্য না থাকায়, প্রসিকিউশন আগের ফরমাল চার্জের ভিত্তিতেই বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চেয়েছিল।”
পুনর্তদন্তের প্রতিবেদন আড়াল করে চার্জ গঠনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য করে সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, “সব নথি ট্রাইব্যুনালে উন্মুক্ত ছিল। আগের প্রসিকিউশন কোনো অন্যায়, অবিচার বা পক্ষপাতিত্ব করেনি; বরং আইন অনুযায়ী সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। মূলত ফার্দার ইনভেস্টিগেশনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন সিদ্ধান্তটিই সঠিক ছিল না।”