অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ে বল হাতে দারুণ অবদান রেখেছেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। সাধারণত ডেথ ওভারের স্পেশালিস্ট হিসেবে পরিচিত হলেও দলের প্রয়োজনে এখন ইনিংসের শুরুতেই নতুন বলে আক্রমণ ভাগ সামলাচ্ছেন তিনি। মুস্তাফিজের এমন পরিবর্তন ও তাঁর সাথে বোলিং করা নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন সতীর্থ পেসার তাসকিন আহমেদ।

ম্যাচ শেষে ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা ও শান্ত স্বভাবের প্রশংসা করে বলেন:

‘ফিজ তো অলওয়েজ চিল গাই (সব সময় শান্ত থাকে)। এক্সপিরিয়েন্স ম্যাটার্স (অভিজ্ঞতা অনেক বড় বিষয়)। এটা ওর বোলিং দেখলেই বোঝা যায়। এতদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললে এমনটাই হয়। নতুন বলেও নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করে। ও চাইলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে ভালো করতে পারে।’

মুস্তাফিজের টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার প্রসঙ্গ টেনে তাসকিন কিছুটা রসিকতা করে আরও বলেন, ‘তবে ও নতুন বলে বেশি ভালো করলে আবার টেস্টে ডাকতে পারে। হাহা, মজা করছি… সে চাইলেই সব ধরনের জায়গায় ও কন্ডিশনে বল করতে পারে। ও এটাই বারবার প্রমাণ করে। যে-ই যখন বল করছে মাশাআল্লাহ ভালো করছে। এটাই ভালো ফাস্ট বোলিং গ্রুপের লক্ষণ। আর শুধু আমি না, সবাই ফিজের সঙ্গে বল করতে উপভোগ করে।’

ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট শিকার করা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার বিষয়ে তাসকিন জানান, আধুনিক ক্রিকেটে কম্পিউটার অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সহজ হয়। তবে বোলার ছন্দে থাকলে উইকেটে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং সাথে কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা লাগে।

ওয়ানডে ম্যাচে রিভার্স সুইং আদায়ের রহস্য জানিয়ে এই গতিদানব বলেন:

‘৩৪ ওভারের পর যখন একটি বল দিয়ে খেলা হয় (ওয়ানডেতে দুই প্রান্ত থেকে দুটি নতুন বল ব্যবহার হওয়ায় এক একটি বল ২৫ ওভার পর্যন্ত পুরোনো হয়, তবে কন্ডিশন ও বলের আকৃতির কারণে অনেক সময় ৩৪ ওভার বা তার পরেও রিভার্স দেখা যায়), তখন বলের উজ্জ্বলতা ও আকৃতি ঠিকঠাক ধরে রাখতে পারলে কিছুটা রিভার্স সুইং পাওয়া যায়। তবে রিভার্স হলেই তো হবে না, তা নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।’

তাসকিন জানান, সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে লম্বা সময় পুরোনো বলে বল করার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে ওয়ানডেতে পুরোনো বলে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রেখে রিভার্স সুইং করতে সাহায্য করেছে। একই সাথে বলের কন্ডিশন ধরে রাখার জন্য ফিল্ডার ও সতীর্থদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।