ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ঢাকার কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার সিপাই আবু রায়হান তালুকদার (৪০) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বাড়ির বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান এবং পরে বন্ধু সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে (২০) ডেকে এনে নিহতের মরদেহ ১৫ টুকরা করে গুম করেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের আদালতে রাজু ও সোহেলকে হাজির করা হলে তারা এই জবানবন্দি দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত আবু রায়হান ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাজু মির্জা দীর্ঘ চার বছর ধরে রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করার সুবাদে পরিবারটির আর্থিক লেনদেন ও মূল্যবান সামগ্রীর বিষয়ে সব জানতেন। গত ২৪ জুলাই রাতে টাকার লোভে তিনি রায়হানের পানের সঙ্গে ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করেন। রায়হান গভীরভাবে ঘুমিয়ে পড়ার পর লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন রাজু। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

রাজু জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার পর নিহতের আইফোনটি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে তিনি ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া রায়হান নিখোঁজ থাকাকালীন তার মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করতে বন্ধু সোহেলকে ডেকে আনেন রাজু। দুজন মিলে ঘরের ভেতর চাপাতি দিয়ে রায়হানের মরদেহ ১৫ টুকরা করেন। পরে খণ্ডিতাংশগুলো তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ পূর্ব দিকের একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপে ফেলে আসেন। হত্যার আলামত পুরোপুরি মুছে ফেলতে তারা ডিটারজেন্ট, হ্যান্ডওয়াশ ও হারপিক দিয়ে ঘরের মেঝে ও বাথরুম ভালোভাবে পরিষ্কার করেন।

নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর গত ২ আগস্ট বিকেলে রায়হানের বাড়ির পেছনের পরিত্যক্ত পুকুর ও ডোবা থেকে ট্রাভেল ব্যাগ ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় তার ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকা আত্মসাৎ। ঘটনার পরপরই নিহতের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেওয়ায় আসামিরা কার্ডের মাধ্যমে সব টাকা তুলতে পারেননি। আদালতে অপরাধ স্বীকার করার পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।