মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ে জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনূস সেন্টারে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
জাপানি প্রতিনিধিদলে ইয়োহেই সাসাকাওয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শোটা নাকায়াসু, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি, সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুর, দোভাষী মিস কিমিয়ো মাচিদা, সেন্টার ফর মেডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং রিকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে এবং ড. শিহো তানাকা। অন্যদিকে, গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জাপানি বিশেষ দূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের দায়িত্ব সফলভাবে পরিচালনার জন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বিশ্বজুড়ে সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, স্পষ্ট পরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ছাড়া বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম পরবর্তীতে হতাশা ও ক্ষোভের মুখে পড়তে পারে। জবাবে ইয়োহেই সাসাকাওয়া রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আধুনিক বন্দর অবকাঠামো এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বারে পরিণত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।