দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেফতার হয়েছেন।

আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ব্রেকিং নিউজটি দেওয়ার পরপরই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। দলমত নির্বিশেষে সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্য একযোগে টেবিল চাপড়িয়ে এই খবরকে স্বাগত জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের পুরো প্রক্রিয়াটি সংসদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করেছিল। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এই আবেদন পাঠানো হয় এবং সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে মনিটর করে।
পরবর্তীতে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে 'রেড নোটিশ' জারি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেফতারের অনুরোধ জানায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন: "আমি এই মহান সংসদের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে জানাচ্ছি যে, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারপোলের এনসিবি এক ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানায়—দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আরও অবহিত করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দি প্রত্যর্পণের আবেদন (Extradition Request) প্রেরণ করতে হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পুরো সংসদ জুড়ে আনন্দের আমেজ তৈরি হয়। সাধারণত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কেবল সরকারি দলের টেবিল চাপড়ানোর রেওয়াজ থাকলেও, আজ বিরোধী দলের সদস্যরাও সমান উৎসাহে টেবিল চাপড়াতে শুরু করেন।
এই প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন:
"সাধারণত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন দাঁড়ান তখন একদিক থেকে টেবিল চাপড়ানো আসে। কিন্তু আজকে দেখলাম 'ক্রস দ্য পার্টি লাইন' (দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে), সবাই আপনাকে উৎসাহ দিচ্ছেন কথা বলার জন্য। সুতরাং আমরা অনেক আনন্দিত, এটা একটা বড় খবর, বাংলাদেশের জন্য।"
বেনজীরের এই বড় খবরের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে ২ মিনিট সময় চাইলে সংসদ কক্ষ হাসিতে ও কৌতূহলে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, "মাননীয় স্পিকার, এই বিষয়ে (দ্বিতীয় খবরটিতে) মনে হয় আমার এইদিকেই (সরকারি দল) তালি হবে। ওইদিকে (বিরোধী দল) তালি হবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।"