সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছ থেকে একাধিক দেশের পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) দুবাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছাড়াও বেনজীরের কাছে ইউরোপের দেশ পর্তুগালের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়া তার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিটও পাওয়া গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গত ১২ জুন দুবাইয়ে পা রাখামাত্রই দেশটির পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাকে সেখানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আজ রোববার সকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তরের দুজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন ডিআইজি এবং একজন এআইজির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রত্যেকেই বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে বিষয়টির আন্তর্জাতিক ও আইনি সংবেদনশীলতার কারণে কেউ নাম প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:
"গত ১২ জুন দুবাই ইন্টারপোল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে একটি অফিশিয়াল চিঠি আসে। ওই চিঠিতেই বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে অবহিত করা হয়।"
সেখানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করল পুলিশ সদর দপ্তর
সেখানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা জানান, দুদকের দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা বা 'রেড নোটিশ' জারি করা হয়েছিল। সেই রেড নোটিশের ওপর ভিত্তি করেই দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ তাকে আটক করে।
বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক চ্যানেল ও ইন্টারপোলের নিয়ম অনুযায়ী তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
বিদেশে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে পর্তুগালের পাসপোর্ট উদ্ধারের ঘটনাটি তার পালিয়ে থাকার প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।