রাজবাড়ীর পাংশায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামির বিশ্বাস (৫৫) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

রোববার (২১ জুন ২০২৬) রাত ৯টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পাংশা উপজেলার পাট্রা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আকিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত জামির বিশ্বাস উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের মো. হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট এবং পাট্রা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা।

উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের এই ঘটনায় জামির বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই সংঘর্ষের ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পাংশা মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

“জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত একজন ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং সংঘর্ষে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে।”