মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ৪ থেকে ৬ জুনের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও এর স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক এই জনগোষ্ঠীর অবস্থান বাংলাদেশের মানবিক, সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইয়িলমাজ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের অনন্য মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সোমবার (২২ জুন) ঢাকায় তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইয়িলমাজের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করা হয়।

তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "দীর্ঘস্থায়ী এই বাস্তুচ্যুতি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন।" প্রতিমন্ত্রী এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে তুরস্ককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক ও মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ড. ইয়িলমাজ জানান, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট শুরু থেকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন সুবিধা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সংস্থাটির ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই বাস্তুচ্যুতি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান এবং কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে তুরস্কের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্তর্জাতিক ও মানবিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।