আদালতে মামলার জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপের ফলে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। মাত্র চার কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) হাইকোর্টে ২০ হাজার ৭৪০টি দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার দিনের বিশেষ কার্যক্রমে মামলা নিষ্পত্তির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
তারিখক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তিরিট মামলা নিষ্পত্তিমোট নিষ্পত্তি
০৭ মে৩,২৪৭টি১,৭৬৫টি৫,০১২টি
১৪ মে৩,৮৪২টি৩,২৬২টি৭,১০৪টি
১১ জুন৬,১৯৯টি৬,১৯৯টি
১৮ জুন১,৮৮৪টি৫৪১টি২,৪২৫টি
সর্বমোট১৫,১৭২টি৫,৫৬৮টি২০,৭৪০টি
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বিশেষ নির্দেশনা অনুসারে গত ৭ মে থেকে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়, যার আওতায় মূলত পুরোনো 'ক্রিমিনাল মিস' (ফৌজদারি বিবিধ) ও পুরোনো 'রিট' মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন:

"হাইকোর্টে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির গৃহীত এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি আশা করি এই বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মামলা জট নিরসনে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই।"

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলা জট নিরসনে বেশ কয়েকটি কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৪০০ মামলার একটি তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ শাখা জানিয়েছে, বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা মামলার জট অনেকটাই কমে আসবে।