জাপানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। ম্যাচটিতে ব্রাজিলের জয়কে বিশ্ব গণমাধ্যম ‘মহাকাব্যিক’, ‘রোমাঞ্চকর’ এবং ‘নাটকীয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলকে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা লিখেছে, “ম্যাচে যেকোনোভাবে টিকে থাকা এবং প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকা—আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ স্টাইল আবারও কাজ করেছে।” জাপানের পারফরম্যান্সকেও তারা তাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসের ‘সেরা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ব্রাজিলের জয়কে ‘রোমাঞ্চকর ও নাটকীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে কাসেমিরোর ঘুরে দাঁড়ানো এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৯৬তম মিনিটে মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলটিকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাসেমিরো প্রসঙ্গে তারা লিখেছে, “তিনি প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করতে অভ্যস্ত।”
এই জয়কে জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’র সাথে তুলনা করেছে। তাদের মতে, এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে জমকালো দল না হলেও, এটি প্রচুর ‘ব্যক্তিত্বসম্পন্ন’ একটি দল। তারা মার্তিনেল্লিকে সুবাসার প্রধান চরিত্রের সাথে তুলনা করে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছে।
ফরাসি পত্রিকা লেকিপ মাত্র এক শব্দে ব্রাজিলের এই জয়কে সংজ্ঞায়িত করেছে: ‘মহাকাব্যিক’। তবে দলটি শুরুতে ‘ভয় পেয়ে গিয়েছিল’ উল্লেখ করে সতর্কবার্তাও দিয়েছে পত্রিকাটি। তাদের মতে, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে সেলেসাওদের পরবর্তী রাউন্ডে প্রথমার্ধের চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলতে হবে।
বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের এই লড়াই কেবল জয় নয়, বরং চাপের মুখে তাদের মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য নজির হিসেবে দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা।